রবিবার, 8 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

শ্যামাপূজা ও শুভ দীপাবলি আজ

প্রতি বছর কার্তিক মাসের অমাবস্যা তিথিতে এই কালীপূজা বা শ্যামাপূজার আয়োজন করা হয়।

শ্যামাপূজা ও শুভ দীপাবলি আজ
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দ্বিতীয় সর্ববৃহৎ ধর্মীয় পার্বণ শ্রীশ্রী শ্যামাপূজা ও শুভ দীপাবলি আজ ৮ নভেম্বর যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হচ্ছে।

প্রতি বছর কার্তিক মাসের অমাবস্যা তিথিতে এই কালীপূজা বা শ্যামাপূজার আয়োজন করা হয়। পৃথিবীতে শান্তি ও শক্তির প্রতীক হিসেবে শ্যামা মায়ের আগমন উপলক্ষে সনাতন সম্প্রদায়ের ঘরে ঘরে এখন পূজার ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে এবং চারদিকে এক উৎসবমুখর আনন্দঘন পরিবেশ বিরাজ করছে।

হিন্দু পৌরাণিক শাস্ত্র অনুযায়ী, দেবী কালী মূলত দশভুজা দুর্গারই শক্তির একটি বিশেষ রূপ। সংস্কৃত ভাষার শব্দ কাল থেকে কালী নামের উদ্ভব ঘটেছে। এই পূজা মূলত শক্তির আরাধনা, যার অন্তর্নিহিত অর্থ হলো জগতের সকল অশুভ ও অন্ধকার শক্তিকে পরাস্ত করে শুভ ও কল্যাণকর শক্তির বিজয় নিশ্চিত করা। ভক্তকুলের কাছে দেবী কালী নানাবিধ নামে পূজিত হন, যার মধ্যে শ্যামা, তারা মা, চামুণ্ডি, ভদ্রকালী, আদ্য মা এবং দেবী মহামায়া অন্যতম।

এই পূজার একটি অন্যতম প্রধান অংশ হলো দীপাবলি। পূজার দিন সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা নিজ নিজ বসতবাড়ি ও শ্মশানঘাটে প্রদীপ জ্বালিয়ে পরলোকগত পিতৃপুরুষ ও আত্মীয়স্বজনের আত্মার শান্তি কামনা করে থাকেন। শারদীয় দুর্গোৎসবের ন্যায় এই পূজাতেও মণ্ডপ ও বাসগৃহে মাটি দিয়ে তৈরি প্রতিমার আরাধনা করা হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন মন্দির বা পারিবারিক বেদিতে স্থাপিত পাথর কিংবা ধাতব মূর্তিতেও দেবী কালীর পূজা হয়ে থাকে। শাস্ত্রীয় বিধান মেনে সাধারণত মাঝরাতে তান্ত্রিক মন্ত্রোচ্চারণের মধ্য দিয়ে পূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়। তবে সাধারণ গৃহস্থ পরিবারগুলোতে তন্ত্রের বদলে অতান্ত্রিক ব্রাহ্মণ্য রীতি অনুসরণ করে আদ্যাশক্তি রূপে কালীর আরাধনা করা হয়। লোকমুখে প্রচলিত বিশ্বাস হলো, দেবী কালী শ্মশানের রক্ষাকর্ত্রী বা অধিষ্ঠাত্রী। সেই বিশ্বাস থেকেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শ্মশানঘাটগুলোতে অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে শ্মশান কালীপূজার আয়োজন করা হয়ে থাকে।

রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের অসংখ্য মণ্ডপ ও মন্দিরে আজ শ্যামাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির, রামকৃষ্ণ মিশন ও মঠ, রমনা মন্দির, রায়েরবাজার মন্দির এবং সিদ্ধেশ্বরী কালীমন্দিরে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া সবুজবাগ এলাকার শ্রীশ্রী বরদেশ্বরী কালীমাতা মন্দির, পোস্তগোলা মহাশ্মশান, পুরান ঢাকার রাধাগোবিন্দ জিও ঠাকুর মন্দিরসহ তাঁতীবাজার, শাঁখারি বাজার ও বাংলাবাজারের পূজামণ্ডপগুলোতেও বিপুল উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে এই ধর্মীয় উৎসব পালিত হচ্ছে।