পারিবারিক কলহ ও আকস্মিক ক্ষোভের জেরে মাকে কুপিয়ে এবং নিষ্পাপ শিশুকে আঘাত করে হত্যার মতো বর্বরোচিত ঘটনা ঘটেছে কুমিল্লার দেবিদ্বারে। হামলায় বাধা দিতে গিয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন অভিযুক্ত যুবকের ভাবি। সংকটাপন্ন অবস্থায় তাঁকে চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
সোমবার সকালে উপজেলার বড়শালঘর গ্রামে মর্মান্তিক এই জোড়া হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। নিহত ব্যক্তিরা হলেন বাষট্টি বছর বয়সী পেয়ার বেগম এবং তাঁর এক বছর বয়সী নাতনি। ঘটনার পরপরই ঘাতক যুবক ইমন মিয়াকে হাতেনাতে ধরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে সোপর্দ করেছে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণে জানা যায়, সকালে মানসিক ভারসাম্যহীন হিসেবে পরিচিত পঁচিশ বছর বয়সী যুবক ইমনের সঙ্গে তাঁর মায়ের তীব্র বাদানুবাদ তৈরি হয়। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে ধারালো দা দিয়ে গর্ভধারিণী মাকে এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করে সে। শাশুড়ির ওপর এমন আক্রমণ দেখে তাঁকে রক্ষা করতে ছুটে আসেন পুত্রবধূ রাবেয়া বেগম। উন্মত্ত ইমন তাঁকেও কুপিয়ে রক্তাক্ত করে। একই সময় সামনে থাকা শিশুটির ওপরও প্রাণঘাতী আঘাত হানে সে। ধারালো অস্ত্রের নির্মম আঘাতেই পেয়ার বেগম ও শিশুটি ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। আশপাশের লোকজন আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাবেয়াকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য জেলা সদরের মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।
স্থানীয় বাসিন্দা শাহীন আলম জানান, দীর্ঘদিন ধরেই যুবকটির মানসিক অসংলগ্নতা ছিল। সকালে হঠাৎ কোনো বিষয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে পরিবারের সদস্যদের ওপর দা নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে সে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান জানান, জোড়া খুনের খবর পেয়েই দ্রুত পুলিশ দল পাঠানো হয়েছে। বৃদ্ধা পেয়ার বেগম ও তাঁর কোলে থাকা শিশুটির মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে এবং জখম রাবেয়াকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ইমন বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। কেন এই মর্মান্তিক কাণ্ড ঘটল, তা উদঘাটনে পুলিশ বিস্তারিত তদন্ত চালাচ্ছে।