অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডার রাজধানী সেন্ট জনসে চলমান কমনওয়েলথ সরকারপ্রধানদের শীর্ষ সম্মেলনের (সিএইচওজিএম) অবসরে ঢাকা ও লন্ডনের মধ্যে একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এবং যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ডের মধ্যকার এই বৈঠকে দুদেশের বাণিজ্যিক সম্পৃক্ততা, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যৌথ প্রয়াস আরও বেগবান করার বিষয়ে দৃঢ় ঐকমত্য প্রকাশ করা হয়েছে। গতকাল রাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক দাপ্তরিক বিবৃতিতে এসব তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
দুই দেশের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের ধারাবাহিক উন্নয়নে দুই নেতাই গভীর সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। আলোচনার একপর্যায়ে ব্রিটেনের বাজারে বাংলাদেশের উৎপাদিত সামগ্রীর বিপুল প্রসার এবং এ দেশে যুক্তরাজ্যের ধারাবাহিক মূলধন খাটানোর বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়। এর পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় বিমান পরিবহন সংস্থার বহরে এয়ারবাস কোম্পানির উড়োজাহাজ যুক্ত করার বিষয়ে ঢাকার ইতিবাচক সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছে উভয় পক্ষ। তাছাড়া বৈশ্বিক জলবায়ু সংকট মোকাবিলা, মানবিক সহায়তা প্রদান এবং নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল অভিবাসন প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোতে আন্তর্জাতিক মঞ্চে একে অপরের পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে উভয় রাষ্ট্র।
বৈঠকে মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বিতাড়িত প্রায় দশ লক্ষাধিক নাগরিককে নিজেদের ভূখণ্ডে দীর্ঘমেয়াদে আশ্রয় দেওয়ার কারণে বাংলাদেশের ভূয়সী প্রশংসা করেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড। চরম সংকটে থাকা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য আগামী দিনগুলোতেও লন্ডনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ত্রাণ ও সহায়তা কার্যক্রম চলমান থাকার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। পরিশেষে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে তার সুবিধামতো যেকোনো সময়ে ঢাকা সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ পৌঁছে দেন বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।