মঙ্গলবার, 3 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

শিশু সহিংসতা রোধে কঠোর ট্রাইব্যুনাল : ৯ মাসে ২ মৃত্যুদণ্ড, ৪ যাবজ্জীবন

রাজধানী ঢাকার মহানগর ট্রাইব্যুনালটি গত নয় মাসের পরিসংখ্যানে দুটি পৃথক মামলায় সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড এবং চারটিতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করে ন্যায়বিচারের একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

শিশু সহিংসতা রোধে কঠোর ট্রাইব্যুনাল : ৯ মাসে ২ মৃত্যুদণ্ড, ৪ যাবজ্জীবন
দেশে শিশুদের ওপর চলমান নির্মমতা ও অপরাধ রুখতে বিচারিক কার্যক্রমে ব্যাপক গতিশীলতা আনা হয়েছে। অপরাধীদের দ্রুততম সময়ে শাস্তির আওতায় আনতে দেশজুড়ে কাজ করছে বিশেষায়িত শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল।

কারাদণ্ডের পাশাপাশি এসব আদালত থেকে আর্থিক জরিমানার নির্দেশও আসছে। রাজধানী ঢাকার মহানগর ট্রাইব্যুনালটি গত নয় মাসের পরিসংখ্যানে দুটি পৃথক মামলায় সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড এবং চারটিতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করে ন্যায়বিচারের একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

দ্রুত বিচার নিষ্পত্তির এক অনন্য নজির দেখা গেছে রাজধানীর পল্লবী এলাকার আট বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তার হত্যাকাণ্ডের রায়ে। মাত্র পাঁচ কার্যদিবসের আইনি প্রক্রিয়া শেষে গত ৭ জুন এই বর্বরোচিত খুনের দায়ে অভিযুক্ত সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ফাঁসির আদেশ দেয় ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল।

মূলত নারী ও শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ২০০০ সালে প্রণীত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের আওতায় প্রতিটি জেলায় বিশেষায়িত আদালত গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরবর্তীতে শিশুদের ওপর পাশবিক নির্যাতন ও হত্যার মতো ঘৃণ্য অপরাধের বিচারকার্য ১৮০ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করে ভুক্তভোগীদের আইনি নিরাপত্তা দিতে সরকার আলাদা ট্রাইব্যুনাল চালুর সিদ্ধান্ত নেয়। এরই অংশ হিসেবে গত বছরের জুন মাস থেকে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়, যেখানে আইনের ৯(১) ধারায় ধর্ষণের পর হত্যার মতো গুরুতর অপরাধের বিচার সম্পন্ন করা হচ্ছে।

বিচারিক পরিসংখ্যান সম্পর্কে ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চ সহকারী পঙ্কজ পিটার গোমেজ জানিয়েছেন, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে শুরু করে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট নয় মাসে ঊনপঞ্চাশটি মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করা হয়েছে। এর মাঝে ছয়টি ঘটনায় আসামিদের দোষী সাব্যস্ত করে সাজা দেওয়া হয়েছে। যার মধ্যে দুটি মৃত্যুদণ্ড এবং চারটি যাবজ্জীবনের রায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে তিনি জানান, বর্তমানে এই বিচারিক আদালতে আরও এক হাজার নয়শো একুশটি মামলা নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।

শিশুদের প্রতি অপরাধের বিচারের বিষয়ে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী জানিয়েছেন, এ ধরনের জঘন্য অপরাধ দমনে রাষ্ট্র অত্যন্ত কঠোর নীতি অনুসরণ করছে। দ্রুততম সময়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই এই বিশেষ আদালতগুলো কাজ করে যাচ্ছে। দোষীদের কেবল কারাবাস বা মৃত্যুদণ্ডই দেওয়া হচ্ছে না, বরং ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদানেরও নির্দেশ দিচ্ছেন বিচারক। পাশবিক নির্যাতনের পর হত্যার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ শাস্তির যে আইনি বিধান রয়েছে, ট্রাইব্যুনাল তা শতভাগ কঠোরতার সঙ্গে বাস্তবায়ন করছে।