মঙ্গলবার ভোরের দিকে দক্ষিণ ইরানের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কেশম দ্বীপ এবং হরমোজগান প্রদেশের বন্দর লেঙ্গেহ অঞ্চলে মার্কিন সামরিক বাহিনী কয়েক দফা বিমান হামলা চালিয়েছে। মার্কিন গণমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের সূত্র ধরে সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এই তথ্য সামনে এনেছে। তবে এই আকস্মিক আক্রমণের ফলে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানির সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোও এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ইরনা জানিয়েছে, ভোরে কেশম দ্বীপে অন্তত পাঁচটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। অন্যদিকে, আধা-সরকারি গণমাধ্যম ফার্স জানিয়েছে যে বন্দর লেঙ্গেহ উপকূলীয় এলাকার সমুদ্রসীমা থেকে এসব শব্দ ভেসে আসে। মার্কিন প্রশাসনের একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার দাবি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম রুট হরমুজ প্রণালিতে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করা বা হামলার সক্ষমতা অর্জন থেকে তেহরানকে নিবৃত্ত করতেই গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ধারাবাহিক ও সীমিত পরিসরের এই ‘প্রতিরক্ষামূলক’ অভিযানগুলো পরিচালনা করছে ওয়াশিংটন।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিতব্য মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক আগে এই সংঘাতের খবর প্রকাশ্যে আসায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইরানের সাথে নতুন করে কোনো বৃহৎ যুদ্ধের সম্ভাবনা অনেকটা নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, তেহরানের সঙ্গে তাদের আগেই সংঘাত হয়েছিল এবং তাতে ওয়াশিংটনই জয়ী হয়েছে। গত কয়েক মাস ধরে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে কোনো লড়াই হয়নি বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই উভয় পক্ষের মধ্যে পর্দার আড়ালে কূটনৈতিক যোগাযোগ চলমান রয়েছে। গত সোমবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই নিশ্চিত করেন যে, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে বার্তা বিনিময় অব্যাহত রয়েছে। এই প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করতে কাতারের রাজধানী দোহায় সফর করেছেন দেশটির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি। উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে আক্রমণ চালালে তেহরানও পাল্টা জবাব দেয়, যা পরবর্তীতে এপ্রিলে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তির মাধ্যমে শান্ত হয়। এরপর ১৮ জুন হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিতে দুই পক্ষের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলেও মতানৈক্যের জেরে এর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া থমকে আছে।