মঙ্গলবার, 3 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

মিয়ানমারে জান্তা বাহিনীর বিমান হামলায় শিশুসহ নিহত ১৫, আহত ৩২

কিয়াক্তাও, ম্রাউক-ইউ, পাউকতাও এবং কিয়াকফ্যু এলাকার জনবহুল বসতি ও একটি প্রসূতি হাসপাতাল লক্ষ্য করে জান্তা বাহিনীর যুদ্ধবিমান থেকে নির্বিচারে গোলাবর্ষণ করা হয়।

মিয়ানমারে জান্তা বাহিনীর বিমান হামলায় শিশুসহ নিহত ১৫, আহত ৩২
মিয়ানমারের রাখাইন ও কারেনি (কায়াহ) প্রদেশের কয়েকটি অঞ্চলে সামরিক বাহিনীর চালানো আকস্মিক বিমান হামলায় এক নবজাতকসহ অন্তত ১৫ জন সাধারণ মানুষ নিহত হয়েছেন। ভয়াবহ এই হামলায় আরও কমপক্ষে ৩২ জন গুরুতর আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সোমবার স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর সূত্রে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ভিত্তিক স্বাধীন সংবাদমাধ্যম দ্য ইরাবতী জানিয়েছে, গত রোববার রাখাইনের কিয়াক্তাও, ম্রাউক-ইউ, পাউকতাও এবং কিয়াকফ্যু এলাকার জনবহুল বসতি ও একটি প্রসূতি হাসপাতাল লক্ষ্য করে জান্তা বাহিনীর যুদ্ধবিমান থেকে নির্বিচারে গোলাবর্ষণ করা হয়। বর্বরোচিত এই আক্রোশে কেবল রাখাইন প্রদেশেই ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর ঠিক আগের দিন শনিবার কারেনি প্রদেশের পূর্ব লইকাও এলাকার একটি বিদ্যালয়েও বোমাবর্ষণ করে জান্তা বাহিনী। ছুটির দিনে সেখানে একটি পুষ্টি কর্মসূচিতে অংশ নিতে শিশুরা জড়ো হয়েছিল। সেই নির্মম হামলায় প্রাণ হারায় তিন নিষ্পাপ শিশু এবং আহত হয় আরও আটজন।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে সেনাপ্রধান জেনারেল মিন অং হ্লাইংয়ের নেতৃত্বে এক সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়। এরপর থেকেই দেশটিতে চরম অস্থিতিশীলতা ও ভয়াবহ গৃহযুদ্ধ বিরাজ করছে। সামরিক জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রতিনিয়ত সশস্ত্র সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে একাধিক জাতিগত বিদ্রোহী গোষ্ঠী।

রাখাইন প্রদেশ মূলত মিয়ানমারের সংখ্যালঘু মুসলিম রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর আদি নিবাস। যুগের পর যুগ ধরে এই অঞ্চলে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও অন্যান্য উগ্র সশস্ত্র সংগঠনের নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়ে আসছে এই সম্প্রদায়। ধারাবাহিক অমানবিক নিপীড়ন ও প্রাণভয়ে গত কয়েক বছরে লাখ লাখ রোহিঙ্গা নিজেদের মাতৃভূমি ত্যাগ করে প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।