পায়ুপথে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে ১ কেজি ৩৬২ গ্রাম ওজনের তিনটি ডিম্বাকৃতির সোনার পেস্টের প্যাকেট বিদেশে পাচারের চেষ্টার অভিযোগে গ্রেপ্তার মোহাম্মাদ মিনহাজকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।
সোমবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বিমানবন্দর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হাবিবুল হাসিব মিনহাজকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসান শাহাদাত পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই সাইফুল ইসলাম এ তথ্য জানান।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মিনহাজ সোনা চোরাচালান চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে তথ্য গোপন করেছেন এবং অসংলগ্ন বক্তব্য দিয়েছেন। তাঁকে একটি আন্তর্জাতিক সোনা চোরাচালান চক্রের সক্রিয় সদস্য বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
আবেদনে আরও বলা হয়, তাঁকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের পরিচয়, চক্রের মূল হোতা এবং এ কারবারে ব্যবহৃত অর্থের উৎস ও লেনদেনের তথ্য বের করা প্রয়োজন।
মিনহাজের বাড়ি চট্টগ্রামের রাউজান থানার নতুন হাট এলাকায়। গত ১ নভেম্বর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে চট্টগ্রাম হয়ে আবুধাবি যাওয়ার জন্য তাঁর টিকিট কাটা ছিল। এ সময় কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের কাছে গোপন তথ্য আসে, তাঁর পায়ুপথে সোনা লুকানো রয়েছে।
ওই তথ্যের ভিত্তিতে সেদিন সন্ধ্যায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ডিপারচার বোর্ডিং ব্রিজ-সি-৪ সংলগ্ন হোল্ডিং লাউঞ্জ থেকে তাঁকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেন কাস্টমস গোয়েন্দারা।
পরে অধিকতর পরীক্ষার জন্য তাঁকে উত্তরার একটি ক্লিনিকে নেওয়া হয়। সেখানে এক্স-রে পরীক্ষায় তাঁর পায়ুপথে ডিম্বাকৃতির তিনটি সোনার পেস্টভর্তি প্যাকেটের অস্তিত্ব শনাক্ত হয়।
উদ্ধার করা প্রতিটি প্যাকেটের ওজন ৪৫৪ গ্রাম। তিনটি প্যাকেট মিলিয়ে সোনার পেস্টের মোট ওজন দাঁড়ায় ১ হাজার ৩৬২ গ্রাম। একজন জুয়েলারি ব্যবসায়ীর পরীক্ষায় এগুলো ২৪ ক্যারেটের সোনার পেস্ট বলে প্রত্যয়ন করা হয়।
পরিশোধনের পর এসব পেস্ট থেকে আনুমানিক ১ হাজার ২৬০ গ্রাম স্বর্ণ পাওয়া যেতে পারে। উদ্ধার করা সোনার আনুমানিক বাজারমূল্য ২ কোটি ১২ লাখ ৯৪ হাজার টাকা।
এ ঘটনায় কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত সার্কেলের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা সাফায়েত উল্লাহ ভূইয়া বিশেষ ক্ষমতা আইনে বিমানবন্দর থানায় মামলা করেন।