মঙ্গলবার, 3 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

জেলহত্যা দিবস আজ

৫১ বছর আগে ১৯৭৫ সালের এই দিনটির গভীর রাতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে নির্মমভাবে খুন হন মহান মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী মুজিবনগর সরকারের চার শীর্ষ ব্যক্তিত্ব।

জেলহত্যা দিবস আজ
আজ ৩ নভেম্বর, বাঙালি জাতির ইতিহাসের অন্যতম এক কলঙ্কজনক ও বেদনাবিধুর দিন, জেলহত্যা দিবস। ৫১ বছর আগে ১৯৭৫ সালের এই দিনটির গভীর রাতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে নির্মমভাবে খুন হন মহান মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী মুজিবনগর সরকারের চার শীর্ষ ব্যক্তিত্ব। তারা হলেন— তৎকালীন অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ এবং মন্ত্রিসভার দুই গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী ও এ এইচ এম কামারুজ্জামান।

এর আগে একই বছরের ১৫ই আগস্ট স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর তার এই চার বিশ্বস্ত রাজনৈতিক সহযোদ্ধাকে বন্দি করে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। সেখানেই এই ঘৃণ্য হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়, যা পরবর্তীতে ‘জেলহত্যা মামলা’ হিসেবে দেশজুড়ে পরিচিতি লাভ করে। নির্মম এই হত্যাকাণ্ডের পরদিন অর্থাৎ ১৯৭৫ সালের ৪ নভেম্বর তৎকালীন কারা উপমহাপরিদর্শক কাজী আবদুল আউয়াল বাদী হয়ে রাজধানীর লালবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছিলেন।

তবে দীর্ঘ ২১ বছর ধরে এই মামলার আইনি ও তদন্ত কার্যক্রম সম্পূর্ণ স্থগিত ছিল। পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালের জুনে আওয়ামী লীগ সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থমকে থাকা এই বিচার প্রক্রিয়ার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম পুনরায় গতি পায়। দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে ঘটনার প্রায় ২৯ বছর পর, ২০০৪ সালের ২০শে অক্টোবর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত এই চাঞ্চল্যকর মামলার চূড়ান্ত রায় প্রদান করেন। বিচারকের দেওয়া সেই রায়ে তিনজনকে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড এবং আটজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

আদালতের রায়ে সাজাপ্রাপ্ত মোট ১১ জন আসামির মধ্যে এখনো ১০ জনই আইনের ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন। এখন পর্যন্ত কেবল একজন অপরাধীর দণ্ড কার্যকর করা সম্ভব হয়েছে। যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তদের অন্যতম, বরখাস্তকৃত ক্যাপ্টেন আবদুল মাজেদ দীর্ঘদিন বিদেশে পলাতক থাকার পর ২০২০ সালের এপ্রিলে দেশে ফিরলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হন। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলাতেও ফাঁসির নির্দেশপ্রাপ্ত এই ঘাতকের মৃত্যুদণ্ড একই বছরের এপ্রিল মাসেই কার্যকর করা হয়।