শুক্রবার, 30 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

বছরের শেষ নাগাদ পণ্যের দাম বাড়তে পারে ২৩ শতাংশ: বিশ্বব্যাংক

‘অক্টোবর ২০২৬: কমোডিটি মার্কেটস আউটলুক’ শীর্ষক এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য তুলে ধরেছে বিশ্বব্যাংক।

বছরের শেষ নাগাদ পণ্যের দাম বাড়তে পারে ২৩ শতাংশ: বিশ্বব্যাংক
চলমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং বৈরী আবহাওয়ার প্রভাবে চলতি বছর আন্তর্জাতিক বাজারে সব ধরনের পণ্যের গড় মূল্য ২৩ শতাংশ পর্যন্ত স্ফীত হতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা এবং রাশিয়া-ইউক্রেনের দীর্ঘস্থায়ী সামরিক সংঘাতকে এই ঊর্ধ্বমুখিতার প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ বছর জ্বালানি খাতের ব্যয় ৩২ শতাংশ এবং খাদ্যসামগ্রীর মূল্য ১০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ার পূর্বাভাস মিলেছে। তবে আগামী বছর সার্বিক দ্রব্যমূল্য কিছুটা নিম্নমুখী হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও, দৈনন্দিন খাদ্যের ব্যয় বৃদ্ধির শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।

‘অক্টোবর ২০২৬: কমোডিটি মার্কেটস আউটলুক’ শীর্ষক এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য তুলে ধরেছে বিশ্বব্যাংক। আন্তর্জাতিক এই সংস্থাটির বিশ্লেষণ অনুসারে, বর্তমান বছরে অপরিশোধিত ব্রেন্ট ক্রুড তেলের প্রতি ব্যারেলের গড় দর ৯১ মার্কিন ডলারে গিয়ে ঠেকতে পারে, যা ২০২৫ সালে ছিল মাত্র ৬৯ ডলার। তবে ২০২৭ সাল নাগাদ এই হার কমে ৭৯ ডলারে নেমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যবস্থায় ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ফলে মজুত হ্রাস পাওয়ায় নতুন করে সরবরাহ বিঘ্নিত হলে বৈশ্বিক সংকট আরও ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে, রাশিয়া ও ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে কৃষ্ণসাগর দিয়ে কৃষিপণ্য পরিবহনে বাধা এবং রাশিয়ান পরিশোধিত জ্বালানি রপ্তানিতে স্থবিরতা বিশ্ববাজারকে চরম অস্থিরতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

আন্তর্জাতিক বাজারের খাদ্যদ্রব্যের মূল্য পরিস্থিতি নিয়ে সংস্থাটি জানিয়েছে, চলতি বছর এই খাতে ১০ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি ঘটতে পারে, যা আগামী বছরে আরও ৭ শতাংশ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সব মিলিয়ে আগামী দুই বছরে খাদ্যের দাম প্রায় ১৮ শতাংশ বাড়তে পারে। কৃষিখাতে এই সংকটের পেছনে কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চলে বাণিজ্যে অচলাবস্থা, এল নিনোর কারণে বৈশ্বিক কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা এবং সার ও জ্বালানির আকাশচুম্বী দামকে দায়ী করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে গত জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে শস্যের দাম ১৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ২০২৭ সালে তা আরও ৯ শতাংশ বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে, অর্থাৎ সংঘাত ও প্রাকৃতিক বিপর্যয় দীর্ঘায়িত হলে ২০২৭ সালে খাদ্যের দাম ২০২২ সালের ভয়াবহতাকেও ছাড়িয়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে, যা বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতি ও চরম খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার জন্ম দেবে।

কেবল খাদ্য বা জ্বালানি নয়, খনিজ ও ধাতব বস্তুর দামেও বড় ধরনের উল্লম্ফন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নবায়নযোগ্য শক্তি, বৈদ্যুতিক যানবাহন এবং ডেটা সেন্টার খাতে বিপুল বিনিয়োগের কারণে অ্যালুমিনিয়াম, তামা ও টিনের মতো ধাতুর চাহিদা বেড়েছে। ফলে গত বছরের তুলনায় ২০২৬ সালে এসব খনিজ পণ্যের দাম সাড়ে ২৪ শতাংশ এবং মূল্যবান ধাতুর দাম প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।

সংস্থাটি বলছে, বৈশ্বিক সংঘাত ও আবহাওয়া পরিস্থিতি যদি অনুকূলে থাকে, তবে ২০২৭ সাল নাগাদ সার্বিক পণ্যমূল্য সূচক ৭ শতাংশ হ্রাস পেতে পারে। কিন্তু এর ব্যত্যয় ঘটলে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৫ ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। এই বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ধাক্কা সামলাতে বিশ্বব্যাংক তাদের নিজস্ব তহবিল থেকে ৫০ থেকে ৬০ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা প্রদানের সক্ষমতা রাখে, যার মধ্যে ২৫ বিলিয়ন ডলারের একটি অর্থায়ন রূপরেখা ইতোমধ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি বেসরকারি খাত থেকে বিনিয়োগ আকর্ষণের মাধ্যমে এই চলমান সংকট মোকাবিলার উদ্যোগও অব্যাহত রয়েছে।