নিবন্ধন কার্যালয়গুলোতে কর্মকর্তা বদলি কেন্দ্রিক নানা অনিয়ম ও অনৈতিক লেনদেনের সংস্কৃতি বন্ধ করতে লটারির মাধ্যমে পদায়ন প্রক্রিয়া শুরু করেছে আইন মন্ত্রণালয়। এই ব্যতিক্রমী পদক্ষেপের অংশ হিসেবে সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবসের সকালে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক কর্মসূচিতে ঢাকা জেলার প্রথম শ্রেণির ১৮টি সাবরেজিস্ট্রার পদের বিপরীতে সমানসংখ্যক কর্মকর্তাকে লটারির সাহায্যে বাছাই করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান উল্লেখ করেন যে, সাবরেজিস্ট্রারদের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে বদলিকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই নানারকম অস্বচ্ছতা ও অভিযোগের কথা শোনা যায়। প্রাতিষ্ঠানিক এই নেতিবাচক আবহ থেকে বেরিয়ে এসে নিয়োগ ও বদলি প্রক্রিয়ায় জবাবদিহিতা নিশ্চিতের তাগিদেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, রাজধানীর বিভিন্ন কার্যালয়ের জন্য নির্বাচিত এই আঠারো জন কর্মকর্তাকে তাঁদের ব্যক্তিগত দক্ষতা ও সংশ্লিষ্ট নিবন্ধন কার্যালয়ের কর্মব্যস্ততা পর্যালোচনা করে নির্দিষ্ট কর্মস্থলে পদায়ন করা হবে। মন্ত্রী আরও স্পষ্ট করেন যে, প্রশাসনিক কাঠামোতে দীর্ঘদিন ধরে জেঁকে বসা অনৈতিক চর্চার বলয় ভাঙতেই সরকার এই সংস্কারমূলক পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে এবং লটারির ব্যবহার সেই প্রচেষ্টারই প্রতিফলন।
একই সঙ্গে সদ্য নির্বাচিত কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে সর্বোচ্চ সততা বজায় রাখার তাগিদ দিয়ে তিনি সতর্কবার্তা দেন যে, কর্মক্ষেত্রে তাঁদের প্রত্যেকের কার্যক্রম সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা কিংবা অসদুপায় অবলম্বনের প্রমাণ মিললে তাৎক্ষণিক আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। মন্ত্রী সারা দেশের চিত্র তুলে ধরে জানান, দেশব্যাপী মোট তিনশত বাহাত্তরটি অনুমোদিত সাবরেজিস্ট্রার পদের বিপরীতে বর্তমানে একশত উনচল্লিশটি পদই ফাঁকা রয়েছে।