কানাডাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার পুরোনো প্রস্তাবটি আবারও নতুন করে সামনে এনেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
রোববার ভোরে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত পোস্টে তিনি দাবি করেন, কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক অঙ্গরাজ্য না হয়েও একটি অঙ্গরাজ্যের সমতুল্য সকল বাণিজ্যিক সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে চায়।
দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে চলমান দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য আলোচনা আনুষ্ঠানিকভাবে ভেঙে যাওয়ার পরপরই ট্রাম্পের পক্ষ থেকে এই প্রথম প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়া সামনে এল। দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন কৃষিপণ্যের ওপর কানাডা উচ্চহারে শুল্ক আরোপ করে আসছে উল্লেখ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, বর্তমান অবস্থায় এই ধরনের সুবিধা আর বহাল রাখা সম্ভব নয়।
উল্লেখ্য, নতুন বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের লক্ষ্যে ওয়াশিংটন ও অটোয়ার প্রতিনিধিরা দীর্ঘদিন আলোচনা চালিয়ে গেলেও কোনো ঐকমত্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হন। বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার জের ধরে শনিবার থেকে কানাডিয়ান বেশ কিছু নির্দিষ্ট পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বর্ধিত শুল্ক কার্যকর করা হয়েছে।
হঠাৎ করেই মার্কিন প্রশাসনের নতুন শুল্ক আরোপের ফলে উত্তর আমেরিকার অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সীমান্ত বাণিজ্যে বড় ধরনের ধাক্কা লাগার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাজারে কানাডার রপ্তানি খাত ও সীমান্তসংলগ্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন।
দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসের দায়িত্বে আসার পর থেকেই ডোনাল্ড ট্রাম্প বিভিন্ন সময়ে কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডের অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে নিজের ব্যক্তিগত আগ্রহের কথা বলে আসছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সর্বশেষ প্রতিক্রিয়াটি তাঁর সেই পুরোনো রাজনৈতিক অবস্থানেরই পুনর্ব্যক্ততা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে ট্রাম্পের এই সাম্প্রতিক মন্তব্যের বিপরীতে কানাডা সরকারের দিক থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।