গাজীপুর মহানগরীর নাওজোর এলাকায় নির্মাণাধীন একটি ভবনে সেপটিক ট্যাংক বিস্ফোরিত হয়ে এক গার্মেন্টস শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত দুই ব্যক্তি।
আজ শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকাল আনুমানিক সোয়া ৭টার দিকে তিনতলা ওই ভবনে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
নিহত ওই তরুণের নাম সাকিব (২২)। তার আদি নিবাস পটুয়াখালী জেলার বাউফল উপজেলায়। তিনি স্থানীয় একটি তৈরি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন এবং দুর্ঘটনাকবলিত ভবনটির নিচতলার একটি কক্ষে ভাড়ায় বসবাস করতেন।
স্থানীয় ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের সূত্রে জানা গেছে, তিনতলা ভবনটির নির্মাণকাজ পুরোপুরি শেষ না হলেও সেপটিক ট্যাংকের ঠিক ওপরেই কক্ষ তৈরি করে শ্রমিকদের কাছে ভাড়া দেওয়া হয়েছিল। আজ সকালে সাকিব ও তার সঙ্গীরা যখন ঘরের ভেতর ছিলেন, ঠিক সে সময়ই ট্যাংকের ভেতর আটকে থাকা বিষাক্ত গ্যাস থেকে বিকট আওয়াজে এই বিস্ফোরণ ঘটে। এর তীব্রতা এতটাই প্রবল ছিল যে কক্ষটির দরজা ও জানালা সম্পূর্ণরূপে ভেঙেচুরে যায় এবং ঘটনাস্থলেই ওই তরুণের মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায় গাজীপুর চৌরাস্তা মডার্ন ফায়ার সার্ভিসের একটি উদ্ধারকারী দল। ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যারহাউস ইন্সপেক্টর রাজিব হোসেন জানান, সেপটিক ট্যাংকের ওপর সরাসরি ঘর নির্মাণ করায় সেখানে উৎপাদিত গ্যাস বাইরে বের হতে পারেনি, আর সেই আবদ্ধ গ্যাস থেকেই এমন ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে তারা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন। পরবর্তীতে নিহত শ্রমিকের মৃতদেহটি উদ্ধার করে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য বাসন থানা কর্তৃপক্ষের নিকট হস্তান্তর করা হয়।
এ বিষয়ে বাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুন অর রশিদ জানান, ময়নাতদন্তের জন্য নিহতের মরদেহটি বর্তমানে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি আহত ব্যক্তিদের পার্শ্ববর্তী চিকিৎসাকেন্দ্রে সেবা প্রদান করা হচ্ছে। কীভাবে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটল, তার সুনির্দিষ্ট কারণ উদ্ঘাটনে পুলিশের তদন্ত চলমান রয়েছে।