টেলিগ্রামের এক বার্তায় আইআরজিসি জানায়, ইরানি কর্তৃপক্ষের সাথে আগাম যোগাযোগ ও অনুমতি ব্যতীত কোনো সামরিক বা বাণিজ্যিক জলযান এই প্রণালি পার হতে পারবে না।
বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটির ওপর ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর একচ্ছত্র কর্তৃত্ব বজায় রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং সংঘাতময় পরিস্থিতিতে নিজেদের ব্যর্থতা গোপন করার উদ্দেশ্যেই ওয়াশিংটন এই রুট উন্মুক্ত থাকার প্রচার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে তেহরান।
ইরানি নৌকমান্ড জানিয়েছে, মার্কিন আগ্রাসী তৎপরতা বন্ধ না হওয়া এবং প্রায় আড়াই মাস পূর্বে স্বাক্ষরিত সমঝোতার শর্ত পুরোপুরি বাস্তবায়িত না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান অবস্থানের কোনো পরিবর্তন ঘটবে না। উল্লেখ্য, ওই চুক্তির মেয়াদ ইতিমধ্যে অতিক্রান্ত হয়েছে বলে তারা দাবি করে।
অন্যদিকে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে সম্পূর্ণ বিপরীত তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের শীর্ষ কর্মকর্তা ব্র্যাড কুপার দাবি করেন, বিগত কয়েক মাসে তাঁদের বাহিনী হরমুজ প্রণালির আন্তর্জাতিক নৌপথ থেকে যাবতীয় মাইন অপসারণ করেছে এবং বর্তমানে রুটটি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে।
একই সুরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও দাবি করেছেন যে, কৌশলগত জলপথটি পুরোপুরি নিরাপদ এবং তা যুক্তরাষ্ট্রের সার্বিক তদারকিতে রয়েছে।
তবে জলপথটির মূল নিয়ন্ত্রণ কার হাতে রয়েছে, সে বিষয়ে উভয় দেশের বিপরীতমুখী দাবির সত্যতা নিরপেক্ষ কোনো মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
যুক্তরাজ্য ভিত্তিক সামুদ্রিক বাণিজ্য পরিচালনা সংস্থার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিগত এক সপ্তাহে দৈনিক গড়ে প্রায় ২৯টি বাণিজ্যিক জাহাজ এই প্রণালি অতিক্রম করেছে। অথচ সংঘাত শুরুর পূর্বে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার হিসেবে এই পথে দৈনিক প্রায় ১৩০টি জাহাজের যাতায়াত ছিল।
মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর খনিজ তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস ও সার বহির্বিশ্বে প্রেরণের জন্য হরমুজ প্রণালি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও অপরিহার্য একটি পথ। ফলে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার চলমান দ্বন্দ্বের মাঝে এই জলপথটি চরম বৈশ্বিক উত্তেজনার কেন্দ্রে রূপ নিয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা রাজনৈতিক ও সামরিক অচলাবস্থার মাঝেই হরমুজ প্রণালি ঘিরে নতুন করে এই টানাটানি শুরু হলো। তেহরান যেখানে আমেরিকার কাছ থেকে নানা সুবিধাজনক ছাড় আদায়ে চাপ বজায় রাখছে, অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসন অর্থনৈতিক অবরোধ ও বিধিনিষেধের মাধ্যমে ইরানি প্রশাসনিক কাঠামোর ওপর অব্যাহত চাপ সৃষ্টি করে চলেছে।