শুক্রবার, 6 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

ইসরায়েলি আগ্রাসনে মধ্যপ্রাচ্যে সর্বগ্রাসী যুদ্ধের শঙ্কা, নিরাপত্তা পরিষদে সিরিয়ার হুঁশিয়ারি

ইসরায়েলের বেপরোয়া সামরিক অভিযান ও সংঘাতপূর্ণ কর্মকাণ্ড পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে এক মারাত্মক বিপর্যয় এবং নিয়ন্ত্রণহীন আঞ্চলিক যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে জাতিসংঘে মারাত্মক উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সিরিয়া।

ইসরায়েলি আগ্রাসনে মধ্যপ্রাচ্যে সর্বগ্রাসী যুদ্ধের শঙ্কা, নিরাপত্তা পরিষদে সিরিয়ার হুঁশিয়ারি
ইসরায়েলের বেপরোয়া সামরিক অভিযান ও সংঘাতপূর্ণ কর্মকাণ্ড পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে এক মারাত্মক বিপর্যয় এবং নিয়ন্ত্রণহীন আঞ্চলিক যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে জাতিসংঘে মারাত্মক উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সিরিয়া।

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে অনুষ্ঠিত এক অধিবেশনে সিরিয়ার স্থায়ী প্রতিনিধি ইব্রাহিম ওলাবি এই কড়া বার্তা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, ইসরায়েলের এই অব্যাহত আগ্রাসন বজায় থাকলে মধ্যপ্রাচ্যের কোনো রাষ্ট্রই প্রভাবমুক্ত থাকতে পারবে না এবং এর চূড়ান্ত ফল সমগ্র বিশ্বের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকেই ঝুঁকির মুখে ফেলবে।

পরিসংখ্যান তুলে ধরে জানানো হয়, সম্পতি সিরিয়ার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আবু আল-দুহুর সামরিক ঘাঁটিতে সামান্য সময়ের ব্যবধানে আট দফায় আকাশপথে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। বিমান আক্রমণের পাশাপাশি সিরিয়ার ভূখণ্ডে বেআইনিভাবে প্রবেশ, নিরীহ মানুষদের ধরে নিয়ে যাওয়া এবং ঘন ঘন গোলাবর্ষণের মতো সার্বভৌমত্ববিরোধী সামরিক কার্যক্রম নিয়মিত চালিয়ে যাচ্ছে তারা।

এমন অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পেক্ষাপটে বৈশ্বিক সম্প্রদায়ের নিকট নিজ ভূখণ্ডের ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষা ও জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা বজায় রাখার আহ্বান জানান সিরীয় প্রতিনিধি।

একই বৈঠকে জাতিসংঘের প্রতিনিধিরা সিরিয়ার ভয়াবহ মানবিক সংকট তুলে ধরে গভীর শঙ্কা প্রকাশ করেন। বহু বছরের গৃহযুদ্ধে বিধ্বস্ত এই দেশটিতে বর্তমানে ৫৫ লাখের বেশি নাগরিক গৃহহীন অবস্থায় মানবেতর জীবন পার করছেন। তাদের মধ্যে আট লাখের বেশি দুর্গত মানুষ বাস করছেন ১ হাজার ২০০টিরও অধিক অস্থায়ী ক্যাম্পে। এছাড়াও, ২০২৪ সালের শেষ দিক থেকে এ পর্যন্ত কেবল মাটির নিচে থাকা মাইন ও বিস্ফোরক দ্রব্যের মুখোমুখি হয়ে আড়াই হাজারেরও বেশি মানুষ আহত বা পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন, যেখানে অকালে প্রাণ হারিয়েছেন ৮৬৫ জন বেসামরিক নাগরিক।

নিরাপত্তা পরিষদের আলোচনায় ইব্রাহিম ওলাবি নিশ্চিত করেন, মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘদিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাত নিরসনে ওয়াশিংটনের নেওয়া বিভিন্ন কূটনৈতিক পদক্ষেপে সিরিয়া ইতিবাচক ভূমিকা রেখে চলেছে। তবে তেল আবিব যদি তাদের সীমান্ত লঙ্ঘন, অনুপ্রবেশ ও বিমান হামলা অবিলম্বে বন্ধ না করে, তবে এ অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি ফিরিয়ে আনা অসম্ভব হয়ে পড়বে।

অন্যদিকে, সিরিয়া সংক্রান্ত জাতিসংঘের ডেপুটি এনভয় ক্লদিও কর্দোনে বর্তমান সময়কে অত্যন্ত সংবেদনশীল মোড় হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। মার্কিন প্রশাসন কর্তৃক সিরিয়াকে সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্রের তালিকা থেকে সরিয়ে নেওয়ার সাম্প্রতিক পদক্ষেপকে তিনি সাধুবাদ জানান।

তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, সিরিয়ার সাধারণ জনগণের দৈনন্দিন জীবন এখনো চরম দারিদ্র্য ও মাত্রাতিরিক্ত মূল্যস্ফীতির কারণে বিপর্যস্ত। বিশেষ করে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর সামরিক অভিযান, বেসামরিক নাগরিকদের বসতবাড়িতে আকস্মিক অভিযান চালানো এবং ফসলি জমি ও সম্পত্তি বিনষ্টের মতো ধ্বংসাত্মক কাজগুলো শান্তির সমস্ত আশাকে অনিশ্চিত করে তুলছে।