ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কে কঠোর অবস্থান নেওয়ার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করতে চলেছে যুক্তরাজ্য।
দখলকৃত পশ্চিম তীরের অবৈধ ইসরায়েলি বসতিতে উৎপাদিত বিভিন্ন পণ্য এবং সেবার বাণিজ্যের ওপর আনুষ্ঠানিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা জানাবেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড।
আজ মঙ্গলবার ব্রিটিশ পার্লামেন্টে দেওয়া বক্তব্যে দেশের পররাষ্ট্রনীতিতে এক বড় ধরণের পুনর্বিন্যাসের রূপরেখা তুলে ধরবেন মিলিব্যান্ড। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের মৌলিক অধিকার সুরক্ষা, আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামোর প্রতি শ্রদ্ধা এবং দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান বাস্তবায়নে যুক্তরাজ্যের জোরালো ভূমিকার বিষয়টি পরিষ্কার করা হবে। ১৯৬৭ সালের যুদ্ধের পর থেকে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে গড়ে ওঠা সমস্ত বেসামরিক বসতিকে আন্তর্জাতিক আইনানুযায়ী শুরু থেকেই বেআইনি বিবেচনা করে আসছে যুক্তরাজ্য।
পরিকল্পিত নতুন এই আইনি বাধ্যবাধকতার আওতায় কেবল উৎপাদিত সামগ্রীই নয়, বরং এসব অবৈধ এলাকায় আর্থিক বিনিয়োগ, অর্থায়ন এবং বিজ্ঞাপনের মতো বাণিজ্যিক সেবা প্রদানও সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ও অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে যাচ্ছে। ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) দেওয়া পরামর্শমূলক নির্দেশনার সাথে সংগতি রেখেই এই নীতির সংশোধন আনা হচ্ছে, যেখানে দখলকৃত ভূমিতে কোনো প্রকার সহায়তা না দিতে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছিল। এর আগে কেবল শুল্ক সুবিধায় কড়াকড়ি থাকলেও এবার সরাসরি আমদানিতেই আইনি নিষেধাজ্ঞা চালু করা হচ্ছে।
তবে এই সিদ্ধান্তের পর দুদেশের মধ্যকার প্রায় ছয় বিলিয়ন পাউন্ড সমমূল্যের বাণিজ্যে কী প্রভাব পড়বে, তা নির্ভর করছে তেল আবিবের পাল্টা প্রতিক্রিয়ার ওপর। গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছাতে বাঁধা দেওয়ার জন্য লন্ডনের পক্ষ থেকে আগের মতোই তোপ দাগানো হতে পারে, যদিও এই মুহূর্তে গাজা পরিস্থিতির কারণে নতুন কোনো আলাদা বিধিনিষেধ কিংবা মামলা দায়েরের কোনো পরিকল্পনা ব্রিটিশ সরকারের নেই।
যুক্তরাজ্যের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পটভূমিতেও সরকারের ওপর এই বিষয়ে স্পষ্ট জনমত ছিল। সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপ অনুযায়ী, দেশটির প্রায় ৪৬ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক অবৈধ ইসরায়েলি বসতি থেকে পণ্য আমদানিতে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞার পক্ষে সায় দিয়েছেন। ফলে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে সম্ভাব্য কূটনৈতিক চাপের সম্ভাবনা থাকলেও, ফিলিস্তিন ভূখণ্ডকে দ্বিখণ্ডিত করার পাঁয়তারা এবং বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা ঠেকাতে যুক্তরাজ্যের এই কঠোর নীতি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হতে যাচ্ছে।
সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান