পটুয়াখালী সদর উপজেলায় যাত্রীবাহী বাস ও তিন চাকার অটোরিকশার মধ্যে তীব্র সংঘর্ষের পর দুটি যানই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের নিচু জলাশয়ে পড়ে গেছে। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় অটোরিকশার তিনজন আরোহী ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন অন্তত দশজন।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে নিখোঁজদের সন্ধানে ও হতাহতদের উদ্ধারে যৌথভাবে তৎপরতা শুরু করে ফায়ার সার্ভিস ও থানা পুলিশ। শনিবার দিবাগত রাত আনুমানিক পৌনে বারোটার দিকে পটুয়াখালী সদর থানার অন্তর্গত বসাক বাজার সংলগ্ন ধলু গাজীর মোড় এলাকায় ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশি তথ্যমতে, বরগুনার তালতলী উপজেলা থেকে রাজধানীর উদ্দেশে রওনা হওয়া ‘ইমরান ট্রাভেলস’ নামের একটি নৈশকোচ উল্লেখিত স্থানে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে ছুটে আসা অটোরিকশাটির মুখোমুখি হয়। সংঘর্ষের প্রচণ্ড অভিঘাতে চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে দুটি বাহনই সড়ক থেকে ছিটকে খাদে পড়ে যায় এবং অটোরিকশাটি ভারী বাসটির তলায় পিষ্ট হয়।
দুর্ঘটনার বিকট আওয়াজ পেয়ে স্থানীয় অধিবাসীরা ছুটে গিয়ে উদ্ধারে হাত লাগান এবং পরবর্তীতে দমকল বাহিনীর কর্মীরা এসে চাপা পড়া অটোরিকশা থেকে তিনজনের নিথর দেহ উদ্ধার করেন। স্থানীয়দের মতে, নিহত ব্যক্তিরা প্রত্যেকেই হালকা যানটির আরোহী ছিলেন। দুর্ঘটনার সময় বাসে প্রায় পঁয়ত্রিশ জন আরোহী ছিলেন এবং তাদের বড় অংশই অলৌকিকভাবে বড় ধরনের বিপদ থেকে রক্ষা পেয়েছেন। আহত ব্যক্তিদের প্রাথমিক উদ্ধার শেষে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
বাসে থাকা একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, যাত্রাপথের শুরু থেকেই দূরপাল্লার গাড়িটি অত্যন্ত দ্রুতগতিতে চলছিল এবং ক্ষণিকের মধ্যে ঘটে যাওয়া বিপর্যয়ে যাত্রীরা আতঙ্কে দিশেহারা হয়ে পড়েন। স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখেন বাসটি আংশিক জলমগ্ন অবস্থায় রয়েছে এবং তার নিচেই দুমড়েমুচড়ে গেছে অটোরিকশাটি।
পটুয়াখালী ফায়ার সার্ভিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত স্টেশন কর্মকর্তা মো. রেজোয়ান জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাদের দুটি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। জলমগ্ন বাসের অভ্যন্তরে কেউ আটকে আছেন কি না কিংবা খাদের পানিতে আর কোনো মরদেহ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে দীর্ঘ সময় তল্লাশি চালানো হয়।
পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, ঘটনাস্থল থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। উদ্ধারকাজ পুরোপুরি শেষ হলে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ পাওয়া যাবে। এ ঘটনায় যথাযথ আইনি পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। দুর্ঘটনার পরপর মহাসড়কে যান চলাচলে সাময়িক বিঘ্ন ঘটলেও দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ি দুটি সরিয়ে ট্রাফিক ব্যবস্থা স্বাভাবিক করে পুলিশ। নিহত ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় শনাক্তের পাশাপাশি ঘটনার বিস্তারিত কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।