বৃহস্পতিবার, 5 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

হরমুজের কাছে সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া

দক্ষিণ কোরিয়ার 'চেওংহে' নামক এই বিশেষ ইউনিটে নতুন করে আরও ৭৫ জন সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

হরমুজের কাছে সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া
হরমুজ প্রণালির আশপাশের জলসীমায় নিজেদের নৌবাহিনীর জলদস্যু দমন ইউনিটের কাজের আওতা সম্প্রসারিত করার উদ্যোগ নিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া।

একই সঙ্গে ওই নির্দিষ্ট অঞ্চলে বাড়তি সামরিক সরঞ্জাম এবং অতিরিক্ত সৈন্য পাঠানোরও রূপরেখা তৈরি করেছে সিউল। আজ বৃহস্পতিবার দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেবিএস এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

বার্তা সংস্থা ইয়োনহাপের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, দক্ষিণ কোরিয়ার 'চেওংহে' নামক এই বিশেষ ইউনিটে নতুন করে আরও ৭৫ জন সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এর ফলে দলটির সার্বিক জনবল বেড়ে ৩৯৫ জনে পৌঁছাবে। গত কয়েক মাস ধরেই ওই অঞ্চলে সেনা মোতায়েনের বিষয়টি নিয়ে সিউল পর্যালোচনা করে আসছিল। তবে দেশটির রাষ্ট্রপ্রধান লি জে মিয়ং আগেই পরিষ্কার করেছেন যে, অন্য কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ সংঘাতে জড়াতে বা যুদ্ধের উদ্দেশ্যে সেখানে এই বাহিনী পাঠানো হচ্ছে না। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চূড়ান্তভাবে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করার পূর্বে মন্ত্রিসভার পর্যবেক্ষণ, রাষ্ট্রপতির সম্মতি এবং সবশেষে জাতীয় সংসদের অনুমোদন গ্রহণ করা হবে।

গত ফেব্রুয়ারি মাসে ইরানের বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইল সামরিক তৎপরতা শুরু করার পর থেকে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার উত্তেজনার অন্যতম প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে হরমুজ প্রণালি। এদিকে, ২০০৯ সাল থেকে মোতায়েন থাকা চেওংহে ইউনিটটি প্রতি বছর সংসদীয় অনুমতির ভিত্তিতে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। কেবিএস জানিয়েছে, মূলত সোমালিয়া উপকূলের এডেন উপসাগরে জলদস্যুদের দমনে তারা কাজ করে থাকে। এর পাশাপাশি জরুরি মুহূর্তে নির্দিষ্ট এলাকাগুলোতে নিজ দেশের নাগরিকদের নিরাপত্তা প্রদানেও তাদের ব্যবহার করা হয়।

সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য বলছে, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নতুন প্রস্তাবনা অনুযায়ী এই জলদস্যু দমন দলটির অপারেশনাল সীমানা ওমানের দুকম বন্দরের দক্ষিণ প্রান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত করা হবে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই বন্দরটি হরমুজ প্রণালি থেকে প্রায় ৬৫০ কিলোমিটার বা ৪০৩ দশমিক ৮ মাইল দূরত্বে অবস্থিত। কেবিএসের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, চেওংহে ইউনিটকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করে তুলতে সেখানে পি-৮এ পোসেইডন মেরিটাইম পেট্রোল এয়ারক্রাফট, সাগরের তলদেশের মাইন শনাক্ত ও ধ্বংস করার স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রপাতির পাশাপাশি বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয়করণে পারদর্শী একটি বিশেষায়িত দল পাঠানোর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সিউলের প্রতিরক্ষা দপ্তর।