বেতন বৃদ্ধির দাবিতে গাজীপুরের শিল্প এলাকায় গত কয়েক দিন ধরে চলমান অস্থিরতা কাটতে শুরু করেছে। বেশিরভাগ উৎপাদনমুখী প্রতিষ্ঠান পুনরায় চালু হওয়ায় বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই কাজে ফিরতে শুরু করেছেন শ্রমজীবী মানুষ।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কসহ আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের কড়া পাহারা বসানো হয়েছে। বর্তমানে ওই সড়কে যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বাধামুক্ত রয়েছে।
আজ সকালে ওই এলাকার নানা সড়ক ও কারখানাগুলোর আশপাশে এমন শান্ত পরিবেশ চোখে পড়ে। উল্লেখ্য, সর্বনিম্ন মজুরি ৩০ হাজার টাকায় উন্নীত করার দাবিতে বেশ কিছুদিন যাবৎ স্থানীয় তৈরি পোশাক খাতের কর্মীরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করে আসছিলেন। আন্দোলনের এক পর্যায়ে তারা মহাসড়ক আটকে দেন এবং বিভিন্ন যানবাহন, বিপণিবিতান ও পুলিশের তল্লাশি চৌকিতে আগুন দেওয়া ছাড়াও ব্যাপক ভাঙচুর চালান। অনাকাঙ্ক্ষিত এই পরিস্থিতির কারণে বাধ্য হয়ে মালিকপক্ষ বেশ কিছু দিন অনেক কারখানা তালাবদ্ধ করে রাখে।
তবে আজ সকালে পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় সিংহভাগ প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করেছে এবং কর্মীরাও স্বতঃস্ফূর্তভাবে কারখানায় প্রবেশ করছেন। যদিও অল্প কিছু কারখানা এখনও তাদের কার্যক্রম শুরু করেনি। পুরো শিল্প এলাকার পরিবেশ শান্ত রাখতে পঁচিশ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের তত্ত্বাবধানে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বা বিজিবির পঁচিশটি প্লাটুন নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করছে। এর পাশাপাশি বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে অন্যান্য বাহিনীর নিয়মিত টহল অব্যাহত রয়েছে।
কাজে ফেরা কয়েকজন কর্মী জানান, উত্তপ্ত পরিস্থিতির কারণে গত কয়েক দিন তারা ডিউটি করতে পারেননি। কারখানার গেটের কাছাকাছি এসে বিশৃঙ্খলা দেখে বাধ্য হয়েই তাদের বাসায় ফিরে যেতে হতো। তবে আজ সকাল থেকে কোনো ধরনের জমায়েত বা বিক্ষোভ না থাকায় তারা নিশ্চিন্তে ভেতরে প্রবেশ করতে পারছেন। সার্বিক বিষয়ে গাজীপুর শিল্প পুলিশের সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন নিশ্চিত করেছেন যে, আজ সকাল থেকে ওই এলাকায় কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার সংবাদ পাওয়া যায়নি। মালিকপক্ষকে কারখানা সচল করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে চারপাশের পরিবেশ পুরোপুরি শান্ত রয়েছে।