বৃহস্পতিবার, 5 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

এইচএসসিতে এক-দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা ২ ডিসেম্বর শুরু: শিক্ষামন্ত্রী

এক বা দুটি বিষয়ে উত্তীর্ণ হতে ব্যর্থ হওয়া উচ্চমাধ্যমিক স্তরের পরীক্ষার্থীদের জন্য আগামী ২ ও ৩ ডিসেম্বর পুনরায় পরীক্ষার আয়োজন করা হবে। এরপর একই মাসের ২৩ তারিখে এসব শিক্ষার্থীর চূড়ান্ত ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে।

এইচএসসিতে এক-দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা ২ ডিসেম্বর শুরু: শিক্ষামন্ত্রী
এক বা দুটি বিষয়ে উত্তীর্ণ হতে ব্যর্থ হওয়া উচ্চমাধ্যমিক স্তরের পরীক্ষার্থীদের জন্য আগামী ২ ও ৩ ডিসেম্বর পুনরায় পরীক্ষার আয়োজন করা হবে। এরপর একই মাসের ২৩ তারিখে এসব শিক্ষার্থীর চূড়ান্ত ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকার মাতুয়াইল এলাকায় অবস্থিত শামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণ পরিদর্শনের সময় শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন গণমাধ্যমকে এই সিদ্ধান্তের কথা অবগত করেন।

উল্লেখ্য, এ বছর দেশের এগারোটি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত উচ্চমাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষায় সামগ্রিক পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশে নেমে এসেছে, যা গত বিশ বছরের পরিসংখ্যানে সবচেয়ে নিচে অবস্থান করছে। এর আগের বছর এই হার ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ। অর্থাৎ, পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় এবার সফলতার হার ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

এবারের পাবলিক পরীক্ষাটিতে সর্বমোট ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন অংশগ্রহণকারী অংশ নিয়েছিলেন। এর মধ্যে সফলতার মুখ দেখেছেন মোট ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন। উত্তীর্ণদের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ছাত্রীদের পাসের হার ৫৬ দশমিক ৩১ শতাংশ, যেখানে মোট ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৫২৮ জন ছাত্রী কৃতকার্য হয়েছেন। অপরদিকে ছাত্রদের পাসের হার তুলনামূলক কম, মাত্র ৪৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ, যার মাধ্যমে ২ লাখ ৯০ হাজার ১৫৭ জন ছাত্র সফলতার দেখা পেয়েছেন।

সর্বোচ্চ ফলাফল তথা জিপিএ-৫ প্রাপ্তির ক্ষেত্রেও এবার বড় ধরনের পতন লক্ষ্য করা গেছে। চলতি বছর মোট ৪০ হাজার ৮৪ জন এই কৃতিত্ব অর্জন করেছেন, যাদের মধ্যে ছাত্র রয়েছেন ২০ হাজার ৩৬৩ জন এবং ছাত্রী রয়েছেন ১৯ হাজার ৭২১ জন। গত আসরে এই সংখ্যা ছিল ৬৯ হাজার ৯৭ জন। ফলশ্রুতিতে সর্বোচ্চ গ্রেডধারীদের সংখ্যা এক ধাক্কায় ২৯ হাজার ১৩ জন কমে গেছে। এছাড়া দেশজুড়ে এমন ২৯৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে, যেখান থেকে একজনও সফল হতে পারেনি। গত বছর এমন ব্যর্থ প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ২০২টি, যার মানে হলো এবার শূন্য পাসের শিক্ষালয়ের সংখ্যা ৯১টি বৃদ্ধি পেয়েছে।

প্রাথমিক সময়সূচি অনুযায়ী, গত ২ জুলাই শুরু হওয়া এবারের লিখিত মূল্যায়ন পর্বটি ৮ আগস্টের মাঝে সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল। পরবর্তীতে ১৫ আগস্টের মধ্যে ব্যবহারিক অংশটুকু শেষ করার রূপরেখা তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু আকস্মিক প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে চট্টগ্রাম বোর্ডের অধীন কয়েকটি বিষয়ের পরীক্ষা পূর্বনির্ধারিত সময়ে নেওয়া যায়নি। পরবর্তীতে সেই আটকে থাকা পরীক্ষাগুলো আলাদাভাবে গ্রহণ করায় ওই নির্দিষ্ট বোর্ডে লিখিত পর্বের সমাপ্তি ঘটে ৯ সেপ্টেম্বরে।