বিশ্বজুড়ে জাতিসংঘের অধীনে পরিচালিত শান্তি প্রতিষ্ঠা কার্যক্রমে সর্বোচ্চ সেনা প্রেরণকারী রাষ্ট্র হিসেবে নিজেদের সুদৃঢ় অবস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ।
এই গৌরবের ধারাবাহিকতায় ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে চলমান মিশনে অংশ নিতে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ১১১ জন সদস্যের একটি দল ঢাকা ত্যাগ করেছে। গতকাল বুধবার জাতিসংঘের ভাড়ায় চালিত ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তারা নির্দিষ্ট গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হন।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর বা আইএসপিআরের পক্ষ থেকে দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আফ্রিকান দেশটিতে বর্তমানে নিয়োজিত বিমান বাহিনীর ১৩৫ সদস্য বিশিষ্ট ইউটিলিটি এভিয়েশন ইউনিটের স্থলাভিষিক্ত হবেন এই নতুন কন্টিনজেন্টের সদস্যরা। সদ্য প্রেরিত এই সেনাদলটির নেতৃত্বভার অর্পণ করা হয়েছে এয়ার কমডোর এ টি এম ইরফানুর রহমানের ওপর।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, সংঘাতপূর্ণ কঙ্গোতে নিজেদের দক্ষতা, পেশাদারিত্ব ও আন্তরিক সেবার মাধ্যমে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সদস্যরা ইতোমধ্যে সেখানকার সরকার ও সাধারণ মানুষের গভীর বিশ্বাস অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন। তাদের এই অর্জিত খ্যাতি ও সফলতা বজায় রেখে আগামী দিনগুলোতে আরও নিপুণভাবে দায়িত্ব পালনের কামনায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একটি বিশেষ দোয়ার আয়োজন করা হয়। সহকারী বিমান বাহিনী প্রধান (পরিচালন) এয়ার ভাইস মার্শাল রুসাদ দীন আছাদসহ বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে কঙ্গোগামী এই সদস্যদের বিদায় অভিবাদন জানান। এর পূর্বে, গত পহেলা নভেম্বর বিমান বাহিনী সদর দপ্তরে এই কন্টিনজেন্ট সদস্যদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেছিলেন বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন।
আইএসপিআরের ওই বিজ্ঞপ্তিতে আরও স্পষ্ট করা হয় যে, নানাবিধ অপপ্রচার ও বিশ্বজুড়ে চলমান অর্থনৈতিক সংকটের মাঝেও আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর গ্রহণযোগ্যতা এবং পারস্পরিক সামরিক সহায়তার পরিধি প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক সমীকরণ পরিবর্তন ও জাতিসংঘের বাজেট সংকোচনের কারণে বিশ্বজুড়ে শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের আকার কিছুটা কমে এলেও, সর্বোচ্চ শান্তিরক্ষী পাঠানো দেশগুলোর তালিকায় বাংলাদেশ তার শীর্ষস্থান সফলভাবেই সুরক্ষিত রেখেছে।