জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রধান সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সাথে ঘটে যাওয়া অপ্রীতিকর ঘটনায় বিএনপি কিংবা সহযোগী কোনো সংগঠনের নেতাকর্মীদের কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা নেই বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁন।
নিজের দেওয়া বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, বেশ কয়েকদিন ধরেই নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী কুষ্টিয়া জেলার বিভিন্ন স্থানে অবাধে ঘুরে বেড়িয়েছেন এবং এ সময় বিএনপি সংশ্লিষ্ট কারও সাথে তার কোনো বিরোধ সৃষ্টি হয়নি। রোববার রাতে তিনি দলীয় সঙ্গীদের নিয়ে ছেঁউড়িয়ায় ফকির লালন শাহের মাজার পরিদর্শনে যান এবং সেখানে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করেন। তবে মাজার চত্বর ছেড়ে আসার মুখে কয়েকজন সাধারণ ব্যক্তির সঙ্গে এনসিপির লোকজনের কথা-কাটাকাটি শুরু হয়, যার একপর্যায়ে একটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটে। স্থানীয় বিএনপির কোনো পর্যায়ের কর্মীরাই এই ঝামেলার সঙ্গে কোনোভাবেই যুক্ত ছিলেন না।
রাশেদ খাঁন আরও জানান, পরিস্থিতির সত্যতা যাচাইয়ে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং দলীয় নেতৃত্বের সাথে যোগাযোগ করেছেন। প্রশাসনের কোনো স্তরেই এই রাজনৈতিক নেতার মাজার পরিদর্শনের পূর্ব তথ্য ছিল না। প্রশাসনকে আগে থেকে অবগত না করে একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তির এভাবে চলাফেরা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, বিশৃঙ্খলার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে নিরাপত্তা দেওয়ার ব্যবস্থা করলেও পথিমধ্যে যানবাহন বদলে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর হঠাৎ তড়িঘড়ি এলাকা ছেড়ে যাওয়া বিষয়টি নিয়ে ধোঁয়াশা ও সন্দেহের জন্ম দিয়েছে।
উল্লেখ্য, রোববার সন্ধ্যার পর কুমারখালী উপজেলার ছেঁউড়িয়ায় লালন মাজার এলাকায় এনসিপির প্রধান সমন্বয়ককে লক্ষ্য করে আক্রমণ ও তার বাহন বিনষ্ট করার অভিযোগ ওঠে, যা ঘিরে মুহূর্তেই স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে রাত আটটার দিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও ঘনিষ্ঠদের সহযোগিতায় তিনি ঘটনাস্থল ত্যাগ করে প্রতিকার চেয়ে এজাহার দায়েরের উদ্দেশ্যে স্থানীয় থানার দিকে গমন করেন।