শুক্রবার, 6 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

সাগরে ২৮৬ দিন, অবশেষে থাইল্যান্ডে মার্কিন রণতরি আব্রাহাম লিংকন

টানা ২৮৬ দিন সাগরে থাকার পর অবশেষে থাইল্যান্ডে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন।

সাগরে ২৮৬ দিন, অবশেষে থাইল্যান্ডে মার্কিন রণতরি আব্রাহাম লিংকন
টানা ২৮৬ দিন সাগরে থাকার পর অবশেষে থাইল্যান্ডে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন। দীর্ঘ এই সময়ে রণতরিটি মধ্যপ্রাচ্যেও মোতায়েন ছিল। জাহাজে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ এবং জীবনযাত্রার পরিবেশের অবনতির খবরের মধ্যেই আজ বুধবার থাইল্যান্ডের লায়েম চাবাং বন্দরে নোঙর করেছে রণতরিটি।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়, প্রায় ৫ হাজার নাবিক ও মেরিন সেনা নিয়ে গত বছরের নভেম্বরে মোতায়েন করা হয়েছিল আব্রাহাম লিংকনকে। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ ও সামরিক অভিযানে অংশ নেয় এটি। ডেমোক্র্যাট দলের আইনপ্রণেতাদের মতে, আধুনিক সময়ে টানা এতদিন সাগরে থাকার রেকর্ড গড়েছে রণতরিটি।

সাধারণত মার্কিন নৌবাহিনীর একটি মোতায়েনের মেয়াদ ছয় থেকে নয় মাসের মধ্যে হয়ে থাকে। তবে যুদ্ধ বা সংঘাতের সময় এ সময়সীমা বাড়তে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের আরও কয়েকটি নৌযানের সঙ্গে পাঁচ দিন থাইল্যান্ডে অবস্থান করবে আব্রাহাম লিংকন। থাই কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ সময় নাবিক ও মেরিনরা বিশ্রাম ও পুনরুদ্ধারের সুযোগ পাবেন। মূল ভূখণ্ডের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় থাইল্যান্ডই যুক্তরাষ্ট্রের একমাত্র চুক্তিভিত্তিক মিত্র।

‘সত্যিই ঐতিহাসিক’ অর্জন

ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ-৩-এর কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল রবার্ট ই. লাফলান এক বিবৃতিতে বলেন, ‘লায়েম চাবাংয়ে আমাদের পৌঁছানো নাবিক ও মেরিনদের প্রয়োজনীয় বিশ্রাম নেওয়া এবং নতুন করে শক্তি সঞ্চয়ের একটি উপযুক্ত সুযোগ দিয়েছে। একই সঙ্গে এটি যুক্তরাষ্ট্র ও থাইল্যান্ডের মধ্যে শক্তিশালী ও দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারত্ব এবং মিত্রতার বিষয়টিও তুলে ধরে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই স্ট্রাইক গ্রুপ যা অর্জন করেছে, তা সত্যিই ঐতিহাসিক। অভিযানের সময় দলের প্রত্যেক সদস্য যে অসাধারণ পেশাদারত্ব ও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন, তাতে আমি গর্বিত।’

১৯৫৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তিভিত্তিক মিত্র হয় থাইল্যান্ড। ২০০৩ সালে দেশটিকে বড় ন্যাটোবহির্ভূত মিত্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয় ওয়াশিংটন। দীর্ঘদিন ধরে থাইল্যান্ডের সশস্ত্র বাহিনী মার্কিন প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের ওপর নির্ভরশীল। দুই দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কও রয়েছে এবং তারা প্রতিবছর যৌথ সামরিক মহড়া পরিচালনা করে।

ব্যাংকক স্পষ্ট করে জানিয়েছে, এই সফর চুক্তিভিত্তিক অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে রসদ সরবরাহ, বিশ্রাম ও পুনরুদ্ধারের জন্য। এর সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কোনো সম্পর্ক নেই।

তবে হাজার হাজার মার্কিন সামরিক সদস্যের আগমনে কাছের পর্যটন শহর পাতায়ায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ার আশা তৈরি হয়েছে। শহরটির যৌন পর্যটনকেন্দ্র হিসেবেও দীর্ঘদিনের পরিচিতি রয়েছে।

পাতায়ার মেয়র পোরামাসে এনগামপিচেস জানিয়েছেন, প্রায় ৪০টি বাসে করে সামরিক সদস্যদের পাতায়া ও লায়েম চাবাং বন্দরের মধ্যে যাতায়াতের ব্যবস্থা করা হবে। লায়েম চাবাং বন্দরে মার্কিন নৌযানগুলো অবস্থান করবে। থাইল্যান্ড উপসাগরের তীরে অবস্থিত পাতায়া রাজধানী ব্যাংকক থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে।

রয়টার্সকে মেয়র বলেন, ‘কিছু জায়গা ও কর্মকাণ্ডে সামরিক সদস্যদের অংশ নেওয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সব ধরনের জলক্রীড়া, জেট স্কিইং, বাঞ্জি জাম্পিং, কুস্তি ও বক্সিং।’

‘পান করবে, আনন্দ করবে, মন খুলে ঘুরবে’

পাতায়ায় অতিরিক্ত পুলিশ টহলও মোতায়েন করা হবে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শহরের প্রধান সমুদ্রসৈকত ও রাতের বিনোদনকেন্দ্রগুলোতে এই টহল থাকবে। এর আগে সপ্তাহান্তে চালানো অভিযানে পতিতাবৃত্তির সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে ৪০ থেকে ৫০ জনকে আটক করা হয়েছিল।

থাইল্যান্ডে যৌন ব্যবসা বেআইনি হলেও ব্যাংকক ও পাতায়াসহ দেশটির বড় পর্যটনকেন্দ্রগুলোর বিভিন্ন এলাকায় এটি প্রকাশ্যেই চলে। মাঝেমধ্যে এ খাতের বিরুদ্ধে অভিযানও চালানো হয়।

আব্রাহাম লিংকনের আসার আগের দিন পাতায়ার কুখ্যাত ‘ওয়াকিং স্ট্রিট’ এলাকার কাছের ফুটপাতের বিক্রেতাদের মধ্যে মার্কিন সামরিক সদস্যদের আগমন ঘিরে উৎসাহ দেখা যায়। তারা বিক্রি বাড়ার আশায় ছিলেন।

৪৩ বছর বয়সী পোশাক বিক্রেতা কাদসালিন কেতপা বলেন, ‘এই দিনগুলোতে এখানে খুবই নীরবতা। বন্দরে মার্কিন নৌযান আসার আগে আমি যুক্তরাষ্ট্রের বাস্কেটবল জার্সি ও হাতির নকশার প্যান্টসহ কিছু পণ্য মজুত করেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘তারা আসায় আমার বিক্রি বাড়বে বলে আশা করছি। তাদের জন্য কিছু পণ্য প্রস্তুত করেছি। তারা এগুলো পছন্দ করবে কি না, জানি না।’

৪৫ বছর বয়সী খাবার বিক্রেতা সারোচের মতে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর নৌযান থাইল্যান্ডে এলে ব্যবসার জন্য তা ভালো হয় এবং এমন সফরের জন্য তারা সবসময় অপেক্ষা করেন। তিনি বলেন, ‘তারা এখানে পান করবে, আনন্দ করবে এবং মন খুলে ঘুরবে।’