শুক্রবার, 6 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

ট্রাম্পের শুল্ক এড়াতে চীনকে সাহায্য করেছে ৪০টিরও বেশি দেশ: যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত উচ্চ শুল্কের হার এড়িয়ে চলতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের পথ ঘুরিয়ে চীনের সহায়তায় এগিয়ে এসেছে বিশ্বের ৪০টিরও বেশি দেশ।

ট্রাম্পের শুল্ক এড়াতে চীনকে সাহায্য করেছে ৪০টিরও বেশি দেশ: যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত উচ্চ শুল্কের হার এড়িয়ে চলতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের পথ ঘুরিয়ে চীনের সহায়তায় এগিয়ে এসেছে বিশ্বের ৪০টিরও বেশি দেশ।

এসব দেশের ওপর কম মার্কিন শুল্ক বহাল থাকার সুযোগ নিয়ে বেইজিং তাদের পণ্য সরাসরি না পাঠিয়ে তৃতীয় দেশের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে সরবরাহ করেছে বলে আনুষ্ঠানিকভাবে দাবি করেছে হোয়াইট হাউস। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত বিশেষ এক প্রতিবেদনে মার্কিন প্রশাসন এই আশঙ্কাজনক বাণিজ্য কৌশল উন্মোচন করে।


হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, বেইজিংকে এভাবে বাণিজ্য সুবিধা করে দেওয়া দেশগুলোর তালিকায় রয়েছে কানাডা, ভারত, মেক্সিকো, জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়ার মতো শীর্ষ বাণিজ্যিক অংশীদাররা। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, এই সমন্বিত প্রক্রিয়ার কারণে কয়েক হাজার কোটি ডলারের রাজস্ব বঞ্চিত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ বিষয়ে মার্কিন বাণিজ্য উপদেষ্টা পিটার নাভারো মন্তব্য করেছেন যে, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কারণে মার্কিন অর্থনীতি শুধু বিপুল অর্থ রাজস্ব হিসেবেই হারায়নি, বরং দেশটির বহু কর্মসংস্থানও গভীর ঝুঁকিতে পড়েছে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রতিবেদনের কড়া সমালোচনা করেছে ওয়াশিংটনে অবস্থিত চীন দূতাবাস। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে দূতাবাসের এক মুখপাত্র জানান, কোনো ধরনের বাণিজ্য লড়াই শেষ পর্যন্ত কারও জন্যই সুফল বয়ে আনে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, মার্কিন শুল্কনীতি এবং চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোকে খাটো করার জন্য মার্কিন প্রশাসনের ক্ষমতা ব্যবহারের প্রক্রিয়া বেইজিং সমর্থন করে না। পাশাপাশি, পুনঃপ্রেরিত পণ্য সম্পর্কিত কোনো একক সিদ্ধান্ত যেন তৃতীয় কোনো দেশের বাণিজ্য বা স্বার্থকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে, সে বিষয়েও সতর্ক করেন তিনি। এদিকে, প্রতিবেদনে উল্লিখিত বিভিন্ন দেশের দূতাবাসগুলোর পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

হোয়াইট হাউসের হিসাব বলছে, বিভিন্ন কম শুল্কযুক্ত দেশের মাধ্যমে প্রায় তিন হাজার থেকে ত্রিশ হাজার কোটি ডলারের সমপরিমাণ পণ্য নতুন রুটে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ভাষায় একে পণ্য পুনঃপ্রেরণ বা রুট পরিবর্তন বলা হয়, যেখানে চূড়ান্ত গন্তব্যে পৌঁছানোর আগে পণ্য অন্য দেশের মাধ্যমে ঘুরিয়ে নেওয়া হয়। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, চীনা প্রস্তুতকারকরা পণ্যের মূল উৎস লুকাতে তৃতীয় দেশের মাটি ব্যবহার করে নতুন করে প্যাকেটজাত করেছে। বিজ্ঞপ্তিতে এই পুরো প্রক্রিয়াকে কাগজের আড়ালে লুকানো এক ধরনের সংগঠিত প্রতারণা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের মতে, আধুনিক যুগে এই চোরাচালানের ধরন ও পরিধি পূর্বের তুলনায় বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং চীন পুরো বিশ্বজুড়ে একটি জটিল ছায়া সরবরাহ নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে। এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড শনাক্ত করতে বর্তমানে তারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করছে বলেও জানিয়েছে হোয়াইট হাউস।

ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যকার চলমান অর্থনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই এই প্রতিবেদনটি সামনে এলো। দুই দেশের সরকারপ্রধানদের এক বহুল আলোচিত বৈঠকের ঠিক পূর্বে তথ্যটি জনসমক্ষে আনা হলো, যা তাদের দ্বিপাক্ষিক আলোচনার পরিবেশে বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে। দীর্ঘমেয়াদী বাণিজ্য চুক্তির অংশ হিসেবে অধিকাংশ শুল্ক সাময়িক স্থগিত থাকলেও, প্রযুক্তি এবং আধুনিক যন্ত্রাংশ রপ্তানিতে উভয় দেশই একে অপরের ওপর একের পর এক বিধিনিষেধ অব্যাহত রেখেছে। পূর্বে ঘোষিত শুল্কনীতি দেশটির সর্বোচ্চ আদালত বাতিল করে দেওয়া সত্ত্বেও, বিকল্প আইনি ক্ষমতা প্রয়োগ করে দেশীয় উৎপাদন ও অর্থনীতি রক্ষায় নিজেদের শুল্কনীতি ধরে রাখতে বদ্ধপরিকর মার্কিন প্রশাসন।