পূর্ব জাপানের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে মাত্র তিন ঘণ্টার ব্যবধানে দুটি মাঝারি ধরনের ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোরের দিকে সংঘটিত এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে চিবা ও ইবারাকি প্রিফেকচার কেঁপে উঠলেও কোনো ধরনের সুনামি সৃষ্টি হয়নি বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির আবহাওয়া দপ্তর।
বার্তা সংস্থা কিয়োডো নিউজের প্রতিবেদনে জাপানের আবহাওয়া সংস্থার তথ্য তুলে ধরে জানানো হয়, প্রথম কম্পনটি অনুভূত হয় স্থানীয় সময় ভোর চারটা ১৩ মিনিটে। উত্তর-পূর্ব চিবার মাটি কাঁপিয়ে দেওয়া এই কম্পনের প্রাথমিক মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে রিখটার স্কেলে চার দশমিক আট। ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় পঞ্চাশ কিলোমিটার গভীরে ছিল এর মূল কেন্দ্র। দেশটির নিজস্ব সাত মাত্রিক তীব্রতা মানদণ্ডে আসাহি নগরীতে এটি চার মাত্রায় রেকর্ড করা হয়, যার প্রভাবে আশপাশের ইবারাকিসহ সংলগ্ন অঞ্চলগুলোতেও ভূকম্পন ছড়িয়ে পড়ে।
এর রেশ কাটতে না কাটতেই সকাল সাতটা ১৪ মিনিটের দিকে দ্বিতীয় ধাক্কাটি লাগে পাশের ইবারাকি অঞ্চলে। পরিমাপকদের হিসাবে রিখটার স্কেলে এর তীব্রতা ছিল চার দশমিক শূন্য এবং এর উৎপত্তিস্থল চিহ্নিত হয় মাটির ষাট কিলোমিটার অভ্যন্তরে। হিতাচিওমিয়া শহরে স্থানীয় স্কেলে এর তীব্রতা মাপা হয় তিন।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জোড়া এই ভূকম্পনের ফলে সাগরে জলোচ্ছ্বাস কিংবা সুনামির কোনো শঙ্কা তৈরি হয়নি এবং তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানির খবরও পাওয়া যায়নি।
ভৌগোলিকভাবে অত্যন্ত সক্রিয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় রিং অব ফায়ার জোনে অবস্থিত হওয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে পূর্ব জাপানের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে দফায় দফায় এমন ভূগর্ভস্থ আলোড়ন তৈরি হচ্ছে। এর আগে চলতি মাসের পয়লা তারিখে উত্তর-পূর্ব চিবায় পাঁচ দশমিক এক এবং সেপ্টেম্বরের শেষভাগে চার দশমিক নয় মাত্রার ভূকম্পন রেকর্ড করা হয়েছিল। এছাড়া আগস্টের শেষ সপ্তাহে আঘাত হানা পাঁচ দশমিক নয় মাত্রার এক তীব্র ভূমিকম্পের প্রভাবে খোদ রাজধানী টোকিওতেই অন্তত চল্লিশ জন বাসিন্দা আহত হয়েছিলেন।