রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা মামলায় দুই পুলিশ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড ও অন্যান্য আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বৃহস্পতিবার দুপুরে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের এই ঐতিহাসিক মামলার রায় ঘোষণা করেন। প্যানেলের অপর দুই সদস্য ছিলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
আদালতের রায়ে অভিযুক্ত সাবেক এএসআই আমির হোসেন ও কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়কে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। এই দুই পুলিশ সদস্য বর্তমানে কারাবন্দি রয়েছেন। এছাড়া মামলার অন্যান্য আসামিদের মধ্যে সহকারী পুলিশ কমিশনার আরিফুজ্জামান জীবন, পরিদর্শক রবিউল ইসলাম নয়ন এবং এসআই বিভূতি ভূষণ রায়কে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
রায়ে তৎকালীন প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কর্মকর্তাদের দায়িত্বহীনতা ও অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য মো. হাসিবুর রশীদসহ চারজনকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্ত অন্য তিনজন হলেন— গণিত বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক মো. মশিউর রহমান, লোকপ্রশাসন বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মন্ডল এবং রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক কমিশনার মো. মনিরুজ্জামান।
মামলার মোট ৩০ জন আসামির মধ্যে ২৪ জন এখনো পলাতক রয়েছেন। এদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী অন্তর্ভুক্ত। অন্যদিকে কারাগারে থাকা প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেলসহ মোট ছয় আসামিকে আজ আদালতে উপস্থিত করা হয়েছিল।
উল্লেখ্য যে, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে পুলিশের সরাসরি গুলিতে নিহত হন আবু সাঈদ। দুই হাত প্রসারিত করে বুক পেতে দেওয়া সাঈদের সেই সাহসিকতার দৃশ্য দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার করে এবং তৎকালীন সরকারের পতনের আন্দোলনকে এক নতুন গতি প্রদান করে। তদন্ত প্রতিবেদনে এই হত্যাকাণ্ডকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যার চূড়ান্ত বিচার আজ সম্পন্ন হলো। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই রায়ের মাধ্যমে জুলাই বিপ্লবের শহীদদের বিচার পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়েছে।