রাজধানীর আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির অনুমোদন বাতিল প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, লাইসেন্স টিকিয়ে রাখতে ওই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিপুল অঙ্কের টাকা নিয়ে তার পেছনে ঘুরেছিল।
তিনি বলেন, আল্লাহর অশেষ রহমতে টাকার প্রতি কোনো মোহ কাজ করেনি। প্রধানমন্ত্রীও তাকে পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়ে বলেছিলেন যা ভালো মনে হয় করতে। ফলে কোনো ধরনের আপস না করে হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে।
নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নিজস্ব তহবিল থেকে দুস্থ ও চিকিৎসাবঞ্চিত মানুষের মাঝে অর্থ সহায়তা বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান।
হাসপাতালের অবহেলা ও পরিবেশের বিবরণ দিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, কিছু লোক এটিকে অবিচার বলে প্রচারের চেষ্টা করছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, একটি রুদ্ধদ্বার কক্ষে কোনো ধরনের জানালা ছাড়া নবজাতকগুলোকে রাখা হয়েছিল। দায়িত্বরত নার্স কক্ষের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র বন্ধ করে দেওয়ায় কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যায়। ফলে অক্সিজেনের অভাবে শিশুরা তীব্র যন্ত্রণায় কাঁদতে শুরু করে। বাইরে মায়েরা আকুতি জানালেও কোনো নার্স কিংবা চিকিৎসক ডিউটিতে ছিলেন না। একটি শিশুকে ওই কক্ষ থেকে বাইরে আনার মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যে সুস্থ হয়ে ওঠার উদাহরণ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, সাধারণ মানুষও বুঝবে যে মুক্ত বাতাসে আসায় শিশুটি সুস্থ হয়েছিল। অথচ চিকিৎসকেরা তা অনুধাবন না করে পুনরায় শিশুটিকে ওই কক্ষে ফেরত পাঠান, যার ফলে ছয়টি শিশুর প্রাণহানি ঘটে। এমন চরম গাফিলতির পর লাইসেন্স বাতিল করা ছাড়া আর কোনো পথ ছিল না।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই একটি কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থার কারণে দেশের অন্যান্য বেসরকারি হাসপাতালগুলো সচেতন হবে এবং সেবার মান উন্নত করতে বাধ্য হবে। কম খরচের প্রলোভন দেখিয়ে মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা বন্ধ করতে হবে। লোকদেখানো নয়, বরং সত্যিকারের মানসিকতা নিয়ে রোগীদের সেবা দেওয়ার জন্য তিনি সংশ্লিষ্টদের আহ্বান জানান।
দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার আধুনিকায়নে সরকারের নতুন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, একটি বিশেষ পাইলটিং স্কিমের মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া হবে। এর অধীনে স্বাস্থ্যকর্মীরা প্রতিটি বাড়ি পরিদর্শন করে প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করবেন এবং গুরুতর প্রয়োজন হলেই কেবল হাসপাতালে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করা হবে।
বিগত আমলের অর্থনৈতিক অনিয়মের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ ভিন্ন ধারায় রাষ্ট্র পরিচালনা করছে, যেখানে সাধারণ মানুষকে সরকারি সুবিধা পেতে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন বা ঘুষ দিতে হয় না। সরকারপ্রধানের পক্ষ থেকেও দুর্নীতিমুক্ত থাকার স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। এছাড়া চিকিৎসা খাতের উন্নয়নে চীনের সহায়তায় দেশে ৩ হাজার শয্যার দুটি অত্যাধুনিক বিশেষায়িত হাসপাতাল গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যেখানে বিশেষ করে নারী ও শিশুদের চিকিৎসার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
মনোহরদী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) সজীব মিয়ার সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে স্থানীয় ও আঞ্চলিক রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।