সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত দেশের প্রায় সাড়ে তিন লাখ শিশুর সমন্বিত চিকিৎসা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে চলতি অর্থবছরেই বাইশটি জেলায় বিশেষায়িত ‘শিশু স্বর্গ’ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হাসপাতালে বিশ্ব সেরিব্রাল পালসি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত এই পরিকল্পনার কথা জানান। অনুষ্ঠানে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহমেদ সোহেল মঞ্জুর বিশেষ অতিথি হিসেবে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক এক গবেষণার তথ্যমতে বাংলাদেশে এই স্নায়বিক জটিলতায় ভোগা শিশুর সংখ্যা সাড়ে তিন লাখেরও বেশি। তবে বাস্তবতা হলো, দেশের প্রধান নিউরোসায়েন্সেস ইনস্টিটিউটের বহির্বিভাগে গেল বছর মাত্র তিন হাজার তিনশত শিশু চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ পেয়েছে। বিপুলসংখ্যক আক্রান্ত শিশু আজও সমাজের দৃষ্টির আড়ালে থেকে যাচ্ছে। পারিবারিক প্রতিকূলতা আর সামাজিক সংকোচের কারণে অনেকেই আবদ্ধ জীবন কাটাতে বাধ্য হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে রাষ্ট্র হিসেবে এই বিশেষ শিশুদের মানবিক অধিকার ও আত্মমর্যাদা ফিরিয়ে দিতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
প্রতিমন্ত্রী জানান, সরকারপ্রধানের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনায় স্বাস্থ্য খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। সেই প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবেই বাইশটি জেলায় এসব বিশেষ কেন্দ্র গড়ে তোলা হচ্ছে। পাশাপাশি পরীক্ষামূলক কার্যক্রম হিসেবে রাজধানীর কড়াইল বস্তিতে ইতিমধ্যে একটি প্রকল্প চালু করা হয়েছে, যার মাধ্যমে চিহ্নিত প্রায় তিনশত শিশুকে নিয়মিত সেবার আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে।
প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে রোগের প্রাথমিক লক্ষণ শনাক্ত করার মতো একটি সার্বিক ব্যবস্থাপনা তৈরি করা এখন সবচেয়ে বড় প্রয়োজন। নানা সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও সাধারণ মানুষকে নিরবচ্ছিন্ন সেবা দিয়ে যাওয়ার জন্য চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি। পরিশেষে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের সার্বজনীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক স্বাস্থ্য ব্যবস্থার আওতায় নিয়ে আসতে সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান ড. মুহিত।