যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে অবস্থিত দেশটির অন্যতম প্রধান সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান জন এফ. কেনেডি সেন্টার ফর দ্য পারফর্মিং আর্টসের মূল ভবন থেকে বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামফলক সম্পূর্ণ অপসারণ করা হয়েছে।
দেশটির একটি ফেডারেল আদালত এই নামকরণকে বেআইনি হিসেবে আখ্যা দেওয়ার পর শনিবার থেকে নাম মুছে ফেলার এই আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হয়।
পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জিও নিউজের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
কেনেডি সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক ম্যাট ফ্লোকা আদালতের কাছে জমা দেওয়া এক দাপ্তরিক নথিতে উল্লেখ করেছেন যে, ভবনের মূল অবকাঠামো এবং এর আশপাশের চত্বরে থাকা ট্রাম্পের নাম সংবলিত সমস্ত সাইনবোর্ড ও দিকনির্দেশনা ইতিমধ্যে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
শনিবার দুপুরের দিকে দেখা যায়, ভবনের সম্মুখভাগে খোদাই করা ট্রাম্পের নামটি সাময়িকভাবে একটি সাদা ত্রিপল দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছিল। এরপর ভেতর থেকে নামফলক ভাঙার যান্ত্রিক শব্দ শোনা যায়, যা কৌতূহলী পথচারীদের ভিড় জমিয়ে দেখতে বাধ্য করে।
এর আগে আদালতের এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত রুখে দিতে কেনেডি সেন্টারের পরিচালনা পর্ষদ আইনি লড়াইয়ের শেষ চেষ্টা চালালেও বিচারক তাদের সেই আবেদন নাকচ করে দেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এটিকে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য একটি বড় ধরনের মনস্তাত্ত্বিক ধাক্কা হিসেবে দেখছেন। পুনরায় হোয়াইট হাউসে বসার পর ট্রাম্প বিভিন্ন সরকারি জাতীয় স্থাপনা ও প্রতিষ্ঠানে নিজের নাম ও ব্র্যান্ড যুক্ত করার যে ব্যাপক তৎপরতা শুরু করেছিলেন, আদালতের এই রায় তাতে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করল।
এদিকে শুক্রবার রাতের দিকে কেনেডি সেন্টারের বাইরে বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ সমবেত হন। কর্তব্যরত কর্মীরা যখন নামফলক নামানোর জন্য লোহার মাচা তৈরি করছিলেন, তখন সমবেত জনতাকে উল্লাস প্রকাশ করতে দেখা যায়। এছাড়া ভার্চুয়াল মাধ্যমেও হাজার হাজার মানুষ সরাসরি এই দৃশ্য পর্যবেক্ষণ করেন।
অবশ্য প্রবল বজ্রঝড় ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে কাজ সম্পন্ন করতে কিছুটা বেগ পেতে হয়। কর্মীদের শারীরিক নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে কিছু সময়ের জন্য এই উচ্ছেদ প্রক্রিয়া স্থগিত রাখা হয়েছিল বলে জানান প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী পরিচালক ম্যাট ফ্লোকা।
গত ২৯ মে ওয়াশিংটনের জেলা বিচারক ক্রিস্টোফার কুপার এক ঐতিহাসিক রায়ে স্পষ্ট জানান, কেনেডি সেন্টারের প্রাতিষ্ঠানিক নাম পরিবর্তন করে ট্রাম্পের নাম যুক্ত করার সরকারি সিদ্ধান্তটি সম্পূর্ণ আইনবহির্ভূত। তিনি তার পর্যবেক্ষণে বলেন, যেকোনো জাতীয় স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের নাম বদল করার একক এখতিয়ার কেবল মার্কিন কংগ্রেসের রয়েছে, প্রশাসনের নয়।
বিচারক তার আদেশে প্রশাসনকে ১৪ দিনের সময় বেঁধে দিয়ে ভবনের মার্বেল পাথরের সম্মুখভাগ এবং প্রতিষ্ঠান-সংশ্লিষ্ট সমস্ত নথিপত্র থেকে ট্রাম্পের নাম মুছে ফেলার নির্দেশ দেন। আদালতের সেই নির্দেশনা মেনে কেনেডি সেন্টার কর্তৃপক্ষ কয়েক দিন আগেই তাদের দাপ্তরিক ওয়েবসাইট থেকে ট্রাম্পের নাম সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য সরিয়ে ফেলেছিল।