যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ন্যাটোর প্রাসঙ্গিকতা এবং বিপদে মিত্র দেশগুলোর পাশে দাঁড়ানোর সদিচ্ছা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের এক সাক্ষাৎকারে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র আক্রান্ত হলে ন্যাটোর অন্য সদস্যরা আদৌ সহায়তা করবে কি না। একই সঙ্গে তিনি আফগানিস্তান যুদ্ধে মিত্র দেশগুলোর সেনাদের ভূমিকা অবমূল্যায়ন করে মন্তব্য করেন যে, তারা লড়াইয়ের সামনের সারিতে না থেকে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করেছিল।
ট্রাম্পের এমন বক্তব্য ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও অসন্তোষের সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে ডেনমার্কের সঙ্গে গ্রিনল্যান্ড ইস্যু নিয়ে চলমান অস্থিরতার মধ্যে এই মন্তব্য সামরিক জোটটির ভেতরে আস্থার সংকটকে আরও প্রকট করে তুলেছে। অথচ ইতিহাসের পাতায় দেখা যায়, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর ন্যাটো তার ইতিহাসের একমাত্র ‘অনুচ্ছেদ ৫’ কার্যকর করেছিল যুক্তরাষ্ট্রের পাশে দাঁড়াতে, যেখানে একটি সদস্য রাষ্ট্রের ওপর আক্রমণকে সবার ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করা হয়।
দীর্ঘ ২০ বছরের আফগানিস্তান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলো বিপুল ত্যাগ স্বীকার করলেও ট্রাম্প তা মানতে নারাজ। তিনি দাবি করেন, মিত্ররা কেবল নামমাত্র কিছু সেনা পাঠিয়েছিল। তবে পরিসংখ্যান বলছে ভিন্ন কথা; এই যুদ্ধে নিহত ৩ হাজার ৫০০ সেনার মধ্যে এক হাজারের বেশি ছিল মিত্র দেশগুলোর। বিশেষ করে জনসংখ্যার অনুপাতে ডেনমার্কের মতো ছোট দেশের সেনাহানির হার ছিল চোখে পড়ার মতো। ট্রাম্পের পাশে বসেই ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে এই বক্তব্যের কড়া জবাব দিয়ে বলেন, আফগানিস্তানে প্রতি দুইজন মার্কিন সেনার মৃত্যুর বিপরীতে একজন করে মিত্র দেশের সেনা প্রাণ হারিয়েছেন। এই ত্যাগকে তুচ্ছ করা অত্যন্ত বেদনাদায়ক।
যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতেও ট্রাম্পের এই মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রী জন হিলি এবং অন্যান্য শীর্ষ রাজনীতিকরা একে ‘চরম অপমানজনক’ বলে অভিহিত করেছেন। তারা মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের ডাকে সাড়া দিয়ে ৪৫০ জনের বেশি ব্রিটিশ সেনা জীবন উৎসর্গ করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই ধারাবাহিক নেতিবাচক অবস্থান ন্যাটোর পারস্পরিক বিশ্বাস ও দীর্ঘদিনের সামরিক ঐক্যকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।