শুক্রবার, 23 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

আফগানিস্তানের কুনার প্রদেশে পাকিস্তানের রকেট হামলায় ৯ হাজার পরিবার বাস্তুচ্যুত

আফগানিস্তানের সীমান্তর্তী কুনার প্রদেশে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর অতর্কিত রকেট হামলায় ব্যাপক মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে।

আফগানিস্তানের কুনার প্রদেশে পাকিস্তানের রকেট হামলায় ৯ হাজার পরিবার বাস্তুচ্যুত
ছবি : সংগৃহীত

আফগানিস্তানের সীমান্তর্তী কুনার প্রদেশে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর অতর্কিত রকেট হামলায় ব্যাপক মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে।

বুধবার হামলার কারণে প্রদেশটির অন্তত ৯ হাজার পরিবার তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। স্থানীয় কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে, বিতর্কিত ডুরান্ড লাইনের কাছাকাছি এলাকায় এই গোলাবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও মানসিক অস্থিরতা তৈরি করেছে।

কুনারের তথ্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রধান নাজিবুল্লাহ হানিফ জানিয়েছেন, যুদ্ধের ভয়াবহতার কারণে হাজার হাজার মানুষ তাদের স্থায়ী আবাসস্থল ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সীমান্তবর্তী গ্রামগুলো এখন জনশূন্য হয়ে পড়েছে এবং বাসিন্দারা তাদের সহায়-সম্পদ ফেলে জীবন বাঁচাতে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে। আব্দুল্লাহ নামে এক স্থানীয় বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পাকিস্তানের এই আকস্মিক হামলার ফলে শিশুরা স্কুল ও মাদরাসায় যেতে পারছে না, এমনকি ধর্মপ্রাণ মানুষ মসজিদে গিয়ে নামাজ আদায় করতেও ভয় পাচ্ছে।

পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে খালিদ খান নামে আরেক ভুক্তভোগী জানান, তাদের বসতবাড়িতে সরাসরি গোলার আঘাত লেগেছে। গ্রামের অধিকাংশ মানুষই এলাকা ছেড়ে চলে গেছে; কেবল কয়েকজন ব্যক্তি রাতে ঘরবাড়ি পাহারা দেওয়ার জন্য অবস্থান করছেন। পাকিস্তানি বাহিনীর এই নির্বিচার গোলাবর্ষণে স্থানীয় কৃষিজীবী মানুষ আর্থিক ও মানবিক দিক থেকে অপূরণীয় ক্ষতির শিকার হয়েছেন। বাসিন্দাদের অনেকেই এখন গুরুতর ট্রমা বা মানসিক সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

কুনার প্রশাসনের তথ্যমতে, পাকিস্তানি বাহিনী সারকানো এলাকায় ৯৩টি, মানোগাই এলাকায় ৩৫টি এবং নারি জেলায় ২০টি গোলা নিক্ষেপ করেছে। এই হামলায় কেবল ঘরবাড়িই নয়, বরং বিশাল এলাকার কৃষিজমি ও ফলের বাগান ধ্বংস হয়ে গেছে। আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যকার এই ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা সীমান্তবর্তী সাধারণ মানুষের জীবনকে এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। স্থানীয়রা অবিলম্বে এই সহিংসতা বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।