টানা বর্ষণের কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পানি জমে থাকায় জ্যামিতিক হারে এডিস মশার প্রজনন বৃদ্ধি পাচ্ছে। কীটতত্ত্ববিদ ও চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, চলতি মৌসুমে ডেঙ্গু সংক্রমণের সবচেয়ে বড় ঝুঁকিতে রয়েছে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগ।
দেশের অধিকাংশ জেলায় এডিস মশার লার্ভার উপস্থিতি আশঙ্কাজনক পর্যায়ে থাকায় আগামী আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে ডেঙ্গু পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে বলে আভাস দেওয়া হয়েছে।
ইতিমধ্যেই দেশে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ায় চিকিৎসা কেন্দ্রগুলোতে আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। তীব্র জ্বর, শরীর ব্যথা ও নানাবিধ উপসর্গ নিয়ে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ হাসপাতালে শরণাপন্ন হচ্ছেন এবং চিকিৎসকদের করা পরীক্ষায় তাদের সিংহভাগেরই ডেঙ্গু শনাক্ত হচ্ছে।
কীটতত্ত্ববিদ ও মশা গবেষকদের সাম্প্রতিক মাঠ পর্যায়ের গবেষণায় দেখা গেছে, দেশের বেশিরভাগ জেলাতেই মশার লার্ভার ঘনত্ব পরিমাপক সূচক বা ব্রুটো ইনডেক্স ২০-এর ঘর অতিক্রম করেছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলে এই সূচক ২০ বা তার বেশি হলে সেখানে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার মতো মশাবাহিত রোগ মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়ার চরম আশঙ্কা থাকে। বর্তমান গাণিতিক মডেলের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগস্ট অথবা সেপ্টেম্বরের যেকোনো সময়ে এই সংক্রমণ সর্বোচ্চ চূড়ায় পৌঁছাতে পারে।
এবারের মৌসুমে বিশেষ করে বরিশাল বিভাগের জেলাগুলোসহ চট্টগ্রাম বিভাগের বেশ কিছু এলাকা এবং ঢাকার পার্শ্ববর্তী গাজীপুর, মানিকগঞ্জ, নরসিংদী, ময়মনসিংহ, চাঁদপুর ও কুমিল্লা জেলা ডেঙ্গুর উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
বিগত বছরের সংক্রমণের হারের সাথে চলতি বছরের ডেঙ্গু চিত্রের এক ধরনের মিল খুঁজে পাচ্ছেন বিশ্লেষকরা। গত বছর সংক্রমণের শীর্ষে ছিল বরিশাল বিভাগ এবং প্রাণহানির সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ছিল ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায়। এবারের চিত্রে দেখা যাচ্ছে, এখন পর্যন্ত আক্রান্তের দিক থেকে বরিশাল বিভাগ এগিয়ে থাকলেও মৃত্যুর হারের দিক থেকে এবার ওপরের সারিতে রয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকা।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আগেই স্থানীয় প্রশাসন ও সাধারণ জনগণকে একযোগে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। এখনই যদি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এডিস মশার উৎপত্তিস্থল ও জমে থাকা পানি অপসারণের জোরালো অভিযান চালানো যায়, তবেই আগস্ট-সেপ্টেম্বরের সম্ভাব্য বড় বিপর্যয় থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।