নিরাপত্তার দিক থেকে অত্যন্ত সুরক্ষিত বিবেচনা করা হলেও অ্যাপলের বেশ কিছু আইফোন মডেলে এবার বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির এ১২ ও এ১৩ বায়োনিক প্রসেসর দ্বারা চালিত মোট ৭টি মডেলে একটি মারাত্মক ত্রুটির সন্ধান পেয়েছেন সাইবার নিরাপত্তা গবেষকেরা। বিখ্যাত তথ্যপ্রযুক্তি নিরাপত্তা সংস্থা প্যারাডাইম শিফটের বিশেষজ্ঞরা এই সংকটের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণ গ্রাহকদের জন্য এখনই বড় কোনো ভয়ের কারণ নেই, যেহেতু দূর থেকে অনলাইনের মাধ্যমে বা ইন্টারনেটের সাহায্যে এই ত্রুটি কাজে লাগিয়ে সাইবার হামলা চালানো সম্ভব নয়। এই উপায়ে ফোনের নিয়ন্ত্রণ নিতে হলে ডিভাইসটি সরাসরি আক্রমণকারীর হাতের নাগালে থাকতে হবে।
সবচেয়ে আশঙ্কাজনক দিক হলো, এই ত্রুটিটি কোনো সফটওয়্যারভিত্তিক সমস্যা নয়, এটি সরাসরি স্মার্টফোনের ভেতরের মূল যন্ত্রাংশ বা হার্ডওয়্যারের নকশাগত ত্রুটি। যার কারণে সাধারণ কোনো সফটওয়্যার আপডেট বা সিকিউরিটি প্যাচ দিয়ে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা অ্যাপলের পক্ষে সম্ভব নয়। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ঝুঁকিপূর্ণ তালিকার মধ্যে থাকা আইফোনগুলো হলো— আইফোন এক্সএস, এক্সএস ম্যাক্স, এক্সআর, আইফোন ১১, ১১ প্রো, ১১ প্রো ম্যাক্স এবং দ্বিতীয় সংস্করণের আইফোন এসই।
'ইউএসবিলিটার৮' নামে চিহ্নিত এই মেকানিক্যাল ত্রুটিটি প্রসেসরের বুটরোম ও ইউএসবি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার মধ্যে অবস্থান করছে। যেকোনো মোবাইল ফোন সচল বা বুট হওয়ার সময় এই বুটরোমের কোডটি চিপের ভেতর স্থায়ীভাবে কাজ করে, যা পরবর্তীতে কোনোভাবে রূপান্তর বা সংশোধন করা যায় না।
সাইবার অপরাধীরা বিশেষ ডিভাইসের মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট কিছু ডেটা প্যাকেট পাঠিয়ে ফোনের লক করা সুরক্ষিত মেমোরি অংশে অনায়াসে প্রবেশাধিকার পেয়ে যেতে পারে। এর ফলে ব্যবহারকারীর অত্যন্ত গোপনীয় ব্যক্তিগত ডেটা চুরি হওয়া কিংবা ডিভাইসে গোপনে কোনো স্পাইওয়্যার বা নজরদারি অ্যাপ্লিকেশন ইনস্টল করার পথ সুগম হতে পারে। অবশ্য স্বস্তির বিষয় হলো, পরবর্তী প্রজন্মের আইফোনগুলোতে প্রসেসরের গাঠনিক নকশায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনার ফলে নতুন মডেলগুলো এই জটিল ঝুঁকি থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত রয়েছে।