ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) কর্তৃক প্রকাশিত দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সংক্রান্ত সাম্প্রতিক প্রতিবেদনটিকে ‘পত্রিকার কাটিং-নির্ভর’ বলে অভিহিত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি উল্লেখ করেন, সংস্থাটি নিজস্ব কোনো তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করে না। দেশের প্রকৃত অপরাধচিত্র জানতে হলে পুলিশ বিভাগ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাপ্তরিক পরিসংখ্যানের ওপর ভরসা করা উচিত।
সোমবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে দায়িত্ব পালনে কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তাকে পুরস্কৃত করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
বর্তমান সরকারের ১০০ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর পুলিশ বাহিনী কতটুকু জনআস্থা অর্জন করতে পেরেছে এবং এই সময়ে ছয় শতাধিক হত্যাকাণ্ডের যে দাবি টিআইবি করেছে, সেটিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে তিনি সন্তোষজনক মনে করেন কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের মুখে পড়েন মন্ত্রী। জবাবে তিনি বলেন, টিআইবি কোনো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান নয়। প্রকৃত অপরাধের হিসাব পুলিশ প্রশাসন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সংগ্রহ করে যাচাই করার জন্য তিনি আহ্বান জানান। মন্ত্রী আরও বলেন, প্রতিবেদনটি এই মুহূর্তে তাঁর সামনে না থাকলেও তিনি জানেন যে সংস্থাটি সাধারণত বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত খবরের ওপর ভিত্তি করে প্রতিবেদন তৈরি করে থাকে, মাঠপর্যায়ে কোনো বাস্তব অনুসন্ধান তারা করে না।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন, জেলা পর্যায় থেকে সংগৃহীত নিয়মিত তথ্যের আলোকেই মন্ত্রণালয়ের অপরাধ সংক্রান্ত পরিসংখ্যান তৈরি হয়, যা সম্পূর্ণ বাস্তবভিত্তিক। অবশ্য গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরগুলোকে সরকার গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে খতিয়ে দেখে বলেও তিনি জানান, তবে সব খবর যে পুরোপুরি সঠিক হয় না, সে কথাও তিনি মনে করিয়ে দেন।
তদন্ত কাজে নিয়োজিত পুলিশ সদস্যদের আর্থিক বরাদ্দ ও ভাতার সীমাবদ্ধতা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, পুলিশ বাহিনীর এই আর্থিক সংকটের বিষয়টি সরকারের নজরে রয়েছে। তবে রাষ্ট্রের সামগ্রিক অর্থনৈতিক সক্ষমতার বিষয়টি বিবেচনা করে পদক্ষেপ নিতে হয়। ভবিষ্যতে তদন্ত, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন সংগ্রহ ও টহল জোরদার করার মতো জরুরি কাজে বাজেট বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত ও পলাতক পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অগ্রগতি প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে মন্ত্রী জানান, এই ধরনের প্রক্রিয়াগুলো বিভাগীয় তদন্ত ও নির্দিষ্ট কমিটির সুপারিশের মাধ্যমে ধাপে ধাপে সম্পন্ন হয়। কিছু ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় অনুমোদনেরও প্রয়োজন পড়ে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে। অনেকগুলোর তদন্ত এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং প্রতিবেদন হাতে পেলেই আইন অনুযায়ী চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর পাশাপাশি তাঁদের অনেকের নামে সাইবার নিরাপত্তা আইন ও দণ্ডবিধির নিয়মিত ধারায় মামলা থাকায়, তাঁরা প্রচলিত আদালতেও বিচারের মুখোমুখি হবেন বলে মন্ত্রী জানান।