মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই’র সঙ্গে টেলিফোনে আলাপ করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। ফোনালাপে বেইজিং তেহরানের প্রতি তাদের দৃঢ় সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে বলে জানিয়েছে ইরানি সংবাদমাধ্যম ইসনা।
আলাপকালে বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতিতে ইরানি জনগণের ধৈর্য ও সাহসিকতার উচ্চ প্রশংসা করেন ওয়াং ই। সেই সঙ্গে চলমান অস্থিরতা নিরসনে এবং একটি স্থায়ী কূটনৈতিক সমাধানে পৌঁছাতে চীন সব ধরনের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।
আলাপকালে আব্বাস আরাগচি উপসাগরীয় অঞ্চল ও কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক তৎপরতা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ওই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি ও উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং এর ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। আরাগচির মতে, ওয়াশিংটনের এই অবস্থান আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য সরাসরি একটি বড় হুমকি হিসেবে কাজ করছে।
এদিকে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মাঝেই নতুন এক আশার আলো দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। আগামী ২২ এপ্রিল বর্তমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা আরও অন্তত দুই সপ্তাহ বাড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ইসরায়েলি একটি সূত্রের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, সংঘাত এড়াতে দুপক্ষই যুদ্ধবিরতির সময়সীমা বাড়াতে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে।
আঞ্চলিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যেকার এই সংকট নিরসনে মধ্যস্থতাকারীরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন এবং আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতি লক্ষ্য করা গেছে। খুব শীঘ্রই বিবদমান পক্ষগুলো পরবর্তী দফার আলোচনার জন্য পুনরায় বৈঠকে বসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মূলত কূটনীতির মাধ্যমে একটি দীর্ঘমেয়াদী সমাধানে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি করতেই এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর প্রচেষ্টা চলছে।