অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে অস্ট্রেলিয়ায় সাময়িক ভিসাধারীদের জন্য নতুন বিধিনিষেধ ঘোষণা করা হয়েছে। এর আওতায় অধিকাংশ বিদেশি শিক্ষার্থী আর তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় যেতে পারবেন না। একই সঙ্গে দেশটিতে অবস্থান বাড়াতে চাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চতর শিক্ষাগত যোগ্যতার কোর্সে যাওয়ার নিয়মও কঠোর করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার এসব পরিবর্তনের ঘোষণা দেন অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক।
নতুন নিয়মে ইতোমধ্যে যেসব শিক্ষার্থীর পরিবারের সদস্য অস্ট্রেলিয়ায় রয়েছেন, তাদের ক্ষেত্রে পরিবার বিচ্ছিন্ন করার মতো কোনো পরিবর্তন আনা হবে না। এ ছাড়া প্যাসিফিক ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার (আসিয়ান) কয়েকটি দেশের নাগরিক এবং পিএইচডির মতো নির্দিষ্ট কোর্সে থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ভিসা শর্ত থাকবে।
অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানের মেয়াদ বাড়ানোর ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে। কোনো শিক্ষার্থী একটি কোর্স শেষ করার পর একই বা নিম্ন স্তরের কোর্সে যাওয়ার বদলে উচ্চতর যোগ্যতার কোর্সে যেতে পারবেন। উদাহরণ হিসেবে, স্নাতক ডিগ্রি শেষ করা শিক্ষার্থী স্নাতকোত্তর পর্যায়ের কোর্সে যাওয়ার সুযোগ পাবেন। ভিসা পরিবর্তনের মাধ্যমে নিয়ম এড়িয়ে অবস্থান বাড়ানোর প্রবণতা ঠেকাতেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে ওয়ার্কিং হলিডে মেকার বা ব্যাকপ্যাকার ভিসার ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার কৃষিসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক খাতে এসব ভিসাধারী কর্মীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় এক বছরের বেশি অবস্থানের ক্ষেত্রে ব্যালট পদ্ধতি চালু করা হবে।
দ্বিতীয় বছর অবস্থানের জন্য ৪৫ হাজার আসন নির্ধারণ করা হয়েছে। আবেদনকারীদের আগে আঞ্চলিক এলাকায় ৮৮ দিন কাজ করার শর্ত পূরণ করতে হবে। তৃতীয় বছর থাকার ক্ষেত্রে আসনসংখ্যা আরও কমিয়ে ৫ হাজার করা হবে এবং যোগ্যতার জন্য ছয় মাস আঞ্চলিক এলাকায় কাজ করতে হবে। তবে যুক্তরাজ্যের নাগরিকদের ক্ষেত্রে এই ব্যালট ব্যবস্থা প্রযোজ্য হবে না।
বর্তমানে ওয়ার্কিং হলিডে ভিসার আওতায় গত বছর প্রায় ৫৭ হাজার মানুষ দ্বিতীয় বছর এবং প্রায় ৩১ হাজার মানুষ তৃতীয় বছর অস্ট্রেলিয়ায় থাকার সুযোগ পেয়েছিলেন। নতুন ব্যবস্থায় এক বছরের পর সবাইকে অবস্থান চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ না দেওয়ার কথা জানিয়েছেন টনি বার্ক।
ওয়ার্কিং হলিডে ভিসা একটি অস্থায়ী ভিসা। সাধারণভাবে ১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সী তরুণরা এবং কিছু দেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রে ৩৫ বছর পর্যন্ত বয়সীরা এর আওতায় সর্বোচ্চ ১২ মাস অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান, কাজ ও ভ্রমণ করতে পারেন। ভ্রমণের পাশাপাশি কাজ করে সেই ভ্রমণের ব্যয় মেটাতে আগ্রহী তরুণদের জন্য এই ভিসা চালু করা হয়েছে।
নতুন নিয়ম ঘোষণার সময় টনি বার্ক বলেন, অভিবাসন অস্ট্রেলিয়ার জন্য একটি ‘শক্তি’ হলেও এর ওপর ‘উচ্চমাত্রার নিয়ন্ত্রণ’ থাকা প্রয়োজন।
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও গ্র্যাজুয়েট ভিসার বিষয়ে টনি বার্ক বলেন, “শিক্ষার্থীরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিবারের সদস্যদের অস্ট্রেলিয়ায় নিয়ে আসতে পারবেন, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে আমরা আর শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়াব না।”
অস্ট্রেলিয়া সরকারের এই পদক্ষেপের লক্ষ্য সামগ্রিক অভিবাসন কমিয়ে আনা। সরকারের হিসাব অনুযায়ী, নিট বিদেশি অভিবাসনের সংখ্যা ২০২৮ সালের মধ্যে ২ লাখ ২৫ হাজারে নামিয়ে আনার লক্ষ্য রয়েছে।