জাতীয় সংসদে নিজের পরিচয় দিতে গিয়ে ‘মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সন্তান’ দাবি করে বিতর্কের মুখে পড়েছেন নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ) আসনের জামায়াতে ইসলামীর সমর্থিত সংসদ সদস্য (এমপি) আব্দুল মুনতাকিম।
রোববার (১৪ জুন) জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি তার পরিবারে ৪৭ জন মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন বলে দাবি করেন। এ সময় তিনি নিজেকে মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সন্তান হিসেবেও উল্লেখ করেন।
তবে নির্বাচনি হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, আব্দুল মুনতাকিমের জন্ম ১৯৮১ সালের ১০ জানুয়ারি। অর্থাৎ ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রায় এক দশক পর তার জন্ম। এছাড়া তার বাবা আব্দুল কাদের সৈয়দী ও মা মোসলমান বেগম বর্তমানে জীবিত রয়েছেন।
সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় মুনতাকিম বলেন, “আমার আব্বারা ৭ ভাই, ৪ জন মুক্তিযোদ্ধা। আমার দাদারা ১৯ জন, ১১ জন মুক্তিযোদ্ধা। আমার মা মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক।”
মুক্তিযুদ্ধসংক্রান্ত একটি বিলের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি তার বাবা ও দাদা মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছেন বলেও দাবি করেন। তার এই বক্তব্যের পর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়।
হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় আব্দুল মুনতাকিমের বয়স ছিল ৪৪ বছর ১১ মাস ২০ দিন। ১৯৮১ সালে জন্ম নেওয়া একজন ব্যক্তি কীভাবে মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সন্তান দাবি করছেন—এ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এমপি মুনতাকিমের বাবা আব্দুল কাদের সৈয়দী ও মা মোসলমান বেগম বর্তমানে জীবিত রয়েছেন। তারা নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের ধলাগাছ গ্রামে ছেলের সঙ্গেই বসবাস করছেন।
এ বিষয়ে মোবাইল ফোনে জানতে চাইলে আব্দুল মুনতাকিম বলেন, “সংসদ অধিবেশন চলাকালীন সময়ে আমি অসুস্থ ছিলাম। মাথায় ছিল প্রচন্ড ব্যথা। সংসদে কি বলেছি, তা বুঝতে পারছি না। আসলে আমার বাবা বেঁচে আছেন। মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছেন আমার দাদা ও চাচা। সংসদে ভুল কিছু বলে থাকলে দেশের মানুষের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।”
তিনি আরও জানান, সংসদে অসুস্থতার কারণে বক্তব্য দেওয়ার সময় ভুল তথ্য চলে এসেছে।