শুক্রবার, 6 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

বাহরাইনে অ্যামাজনের ডেটা সেন্টারে ইরানি ড্রোন হামলা

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যামাজনের ক্লাউড কম্পিউটিং কার্যক্রমে বড় ধরনের আঘাত হেনেছে ইরান।

বাহরাইনে অ্যামাজনের ডেটা সেন্টারে ইরানি ড্রোন হামলা
ছবিঃ সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যামাজনের ক্লাউড কম্পিউটিং কার্যক্রমে বড় ধরনের আঘাত হেনেছে ইরান।

বুধবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে জানা যায়, অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেসের (এডব্লিউএস) একটি ডেটা সেন্টারে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটির গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল পরিষেবাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এর আগে একই দিনে বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি শিল্প স্থাপনায় অগ্নিকাণ্ডের খবর নিশ্চিত করে জানায় যে, দমকল বাহিনী আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। বাহরাইন কর্তৃপক্ষ এই ঘটনাকে সরাসরি ইরানি হামলা হিসেবে অভিহিত করলেও প্রাথমিকভাবে নির্দিষ্ট কোনো কোম্পানির নাম বা ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি। তবে ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে স্পষ্ট করা হয় যে, লক্ষ্যবস্তুটি ছিল অ্যামাজনের ডেটা সেন্টার।

উল্লেখ্য, এই হামলার মাত্র একদিন আগে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার হুঁশিয়ারি দিয়েছিল। সেই তালিকায় মাইক্রোসফট, গুগল এবং অ্যাপলের মতো প্রতিষ্ঠানের নামও অন্তর্ভুক্ত ছিল। ইরানের ভূখণ্ডে মার্কিন হামলার প্রতিশোধ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই স্পর্শকাতর বিষয়টি নিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স যোগাযোগ করলেও অ্যামাজনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

অ্যামাজন গত সপ্তাহে এক বিবৃতিতে জানিয়েছিল যে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে বাহরাইনে তাদের ক্লাউড সেবা বিঘ্নিত হচ্ছে। এক মাসের ব্যবধানে এটি দ্বিতীয়বারের মতো যুদ্ধের প্রভাবে তাদের কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনা। অ্যামাজনের এই ক্লাউড ইউনিটটি বিশ্বের অসংখ্য জনপ্রিয় ওয়েবসাইট এবং বিভিন্ন দেশের সরকারি ডিজিটাল অবকাঠামো পরিচালনায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, যা প্রতিষ্ঠানটির আয়ের প্রধান উৎস হিসেবেও পরিচিত। বর্তমান এই পরিস্থিতিতে বাহরাইন অঞ্চলে তাদের পরিষেবা পুনরায় সচল করা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।