আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ফ্রান্স টুয়েন্টি ফোর সূত্রে জানা যায়, দেশটির অরেঞ্জ অঞ্চলের সরকারি প্রসিকিউটর দপ্তর গত মঙ্গলবার এক বিজ্ঞপ্তিতে নিশ্চিত করে যে, সপ্তাহান্তের রবিবারে উল্লেখিত ওই বাসভবনে ৩২ বছরের এক নারী এক সন্তানের জন্ম দেওয়ার পর তাকে দ্রুত চিকিৎসার উদ্দেশ্যে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
পরবর্তী সময়ে ওই নারীর পুরুষ সঙ্গী হাসপাতাল প্রশাসনকে জানান, তাদের বাসায় তিনি একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ও সন্দেহজনক বস্তুর সন্ধান পেয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট পুরুষের ভাষ্য অনুযায়ী, তার সঙ্গীর সন্তানসম্ভবা হওয়ার সংবাদটি তিনি বেশ দেরিতে অনুধাবন করতে পারেন, যা তাকে চরম মানসিক ধাক্কা দেয়। পরবর্তীতে সন্দেহ নিরসনে বাসায় পরীক্ষা চালানোর সময় তিনি মানবদেহের অবশিষ্টাংশের মতো কিছু দেখে চমকে ওঠেন।
হাসপাতালের পক্ষ থেকে তথ্য হস্তান্তরের পর সোমবার গভীর রাতে পুলিশ সংশ্লিষ্ট বাসায় অভিযান চালায়। সেখানে উপস্থিত ফরেনসিক বিশেষজ্ঞের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, উদ্ধার করা এই দেহাবশেষ পাঁচটি পৃথক সদ্যজাত শিশুর হতে পারে।
তদন্তকারী কর্মকর্তারা চিকিৎসাধীন ওই নারীর বক্তব্য ধারণের পরিবেশ এখনো পাননি। উল্লেখ্য, এই দম্পতির ঘরে ইতোমধ্যে আট ও নয় বছর বয়সী দুটি সন্তান বিদ্যমান। এলাকাটির বাসিন্দা ফ্লোর জ্যঁ সংবাদমাধ্যমকে জানান, সন্তান দুটি পার্শ্ববর্তী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিদ্যাগ্রহণ করত এবং প্রত্যহ মধ্যাহ্নে তাদের মা নিজে এসে সন্তানদের নিয়ে যেতেন। অপরদিকে ওই পুরুষ সদস্য পেশাগত প্রয়োজনে দিনভর বাসার বাহিরে অবস্থান করতেন।
ঘটনাস্থল দু'তলা বিশিষ্ট বাসাটির সিঁড়ির নিকট একাধিক বাইসাইকেল দৃশ্যমান এবং মূল প্রবেশদ্বারটিতে লাল ফিতা ঝুলিয়ে আইনি প্রক্রিয়ার জন্য সিলগালা করেছে পুলিশ প্রশাসন।
ইউরোপের এই দেশটিতে পূর্বেও একাধিকবার বাসগৃহ থেকে মৃত শিশু উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে। চলতি বছরের মার্চ মাসেই এক বসতবাড়ির শীতলীকরণ যন্ত্রের ভেতর থেকে দুটি সদ্যজাত শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়, যে ঘটনায় পরবর্তীতে এক বিচারিক আদালত অভিযুক্ত ৪৪ বছর বয়সী নারীকে ২৫ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেছিলেন।