রবিবার, 25 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

বান্দরবানে আন্তর্জাতিক মানের টিস্যু কালচার ল্যাব, কৃষিখাতে নতুন দিগন্তের সূচনা

পার্বত্য জেলা বান্দরবানের বালাঘাটা হর্টিকালচার সেন্টারে একটি সর্বাধুনিক টিস্যু কালচার ল্যাবরেটরি গড়ে তোলা হচ্ছে।

বান্দরবানে আন্তর্জাতিক মানের টিস্যু কালচার ল্যাব, কৃষিখাতে নতুন দিগন্তের সূচনা
ছবি : সংগৃহীত

পার্বত্য জেলা বান্দরবানের বালাঘাটা হর্টিকালচার সেন্টারে একটি সর্বাধুনিক টিস্যু কালচার ল্যাবরেটরি গড়ে তোলা হচ্ছে।

এই বিশেষায়িত গবেষণাগারটি পুরোপুরি সচল হলে গাছের গুণগত বংশগত বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ণ রেখে অত্যন্ত দ্রুততার সাথে রোগমুক্ত ও উন্নত মানের ফলদ, বনজ এবং বিভিন্ন পুষ্পজাতীয় উদ্ভিদের চারা উৎপাদন করা সম্ভব হবে। এর ফলে তিন পার্বত্য জেলাসহ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলের কৃষকদের মানসম্মত চারার ঘাটতি পূরণে এক বিশাল সম্ভাবনার সৃষ্টি হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর থেকে জানা গেছে, কৃষি মন্ত্রণালয়ের আর্থিক সহায়তায় এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বিশেষ প্রকল্পের অধীনে দেশজুড়ে যে পাঁচটি টিস্যু কালচার গবেষণাগার স্থাপন করা হচ্ছে, বান্দরবান হর্টিকালচার সেন্টারের এই ল্যাবটি তারই একটি অংশ।

হর্টিকালচার সেন্টারের প্রশাসনিক তথ্যানুযায়ী, প্রায় সাড়ে ১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত চারতলা বিশিষ্ট এই ভবনের নিচতলায় দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে এবং দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলা জুড়ে থাকবে আন্তর্জাতিক মানের মূল ল্যাবরেটরি। এছাড়া ভবনের একটি অংশ আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত কৃষক প্রশিক্ষণ হলরুম হিসেবে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে।

কৃষি গবেষকরা জানান, বর্তমানে চারা তৈরির ক্ষেত্রে বীজ বা প্রথাগত কলম পদ্ধতির ওপর নির্ভর করতে হয়, যা বেশ দীর্ঘমেয়াদী এবং উৎপাদন খরচও তুলনামূলক বেশি। আধুনিক টিস্যু কালচার প্রযুক্তির সুবিধা হলো, মূল গাছের টিস্যু ব্যবহার করে অত্যন্ত কম সময়ে ও সাশ্রয়ী খরচে বিপুল পরিমাণ উন্নত চারা তৈরি করা যায়। এর ফলে কৃষকদের চারা ক্রয়ের খরচ যেমন কমবে, তেমনি অতীতে চাহিদার তুলনায় চারা সরবরাহের যে ঘাটতি ছিল, সেটিও পুরোপুরি দূর হবে। একই সাথে ল্যাবে উৎপাদিত চারাগুলো সম্পূর্ণ রোগমুক্ত হওয়ায় ফলনও অনেক ভালো হবে।

স্থানীয় রাজবিলা এলাকার চাষি উমংসিং মারমা এই উদ্যোগ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে জানান, ঘরের কাছে এত বড় আধুনিক সুযোগ তৈরি হওয়ায় তারা এখন থেকে খুব অল্প মূল্যে নিরোগ ও উচ্চ ফলনশীল জাতের চারা সংগ্রহ করতে পারবেন, যা পুরো অঞ্চলের সাধারণ কৃষকদের ভাগ্য বদলে দেবে।

বান্দরবান বালাঘাটা হর্টিকালচার সেন্টারের উপপরিচালক কৃষিবিদ লিটন দেবনাথ জানান, এই ল্যাবটি চালু হলে শুধু বান্দরবান নয়, বরং রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের কৃষকদের ভাগ্য উন্নয়নে এটি যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে। তিনি আরও জানান, কেন্দ্রীয়ভাবে ঢাকা থেকে এই মেগা প্রকল্পের দরপত্র ও তদারকি করা হচ্ছে এবং স্থানীয় পর্যায়েও কাজের মান বজায় রাখতে নিয়মিত নজরদারি চলছে।

প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কে এই কর্মকর্তা জানান, অবকাঠামোগত নির্মাণ কাজের প্রায় ৯০ শতাংশ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে এবং আগামী আগস্ট মাসের মধ্যে বাকি কাজটুকু সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। ল্যাবের জন্য প্রয়োজনীয় অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি কেনার প্রক্রিয়াও সমান্তরালভাবে চলছে। দক্ষ কারিগরি দল এবং প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের কাজ শেষ করে চলতি বছরের মধ্যেই গবেষণাগারটির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কৃষি বিভাগের মতে, এই উদ্যোগ পার্বত্য অঞ্চলের সামগ্রিক অর্থনীতি ও কৃষকদের জীবনযাত্রার মান বাড়াতে বড় চালিকাশক্তি হবে।