দীর্ঘ চার মাসের বিরতির পর বাংলাদেশ ওয়ানডে ক্রিকেটে পুনরায় মাঠে নামছে। বুধবার (১১ মার্চ) মিরপুরের শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম-এ পাকিস্তানের সঙ্গে তিন ম্যাচের সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা খেলবেন।
২০২৭ সালের বিশ্বকাপে সরাসরি কোয়ালিফিকেশন নিশ্চিত করতে এই সিরিজের প্রতিটি পয়েন্ট বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজটি দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ার মাটিতে অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বকাপের জন্য।
অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ দলের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে বলেন, "২০২৩ বিশ্বকাপের পর আমরা খুব বেশি ওয়ানডে খেলিনি, যা ছিল বেশ চ্যালেঞ্জিং। তবে এবার আমাদের সামনে অনেক ম্যাচ আছে, যা পরিকল্পনা সাজাতে সাহায্য করবে। র্যাঙ্কিং ধরে রাখা এবং সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার জন্য প্রতিটি ম্যাচই আমাদের কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ।"
সিনিয়র খেলোয়াড়দের অনুপস্থিতি নিয়ে মিরাজ যোগ করেন, "আগে আমাদের একটি নির্দিষ্ট প্যাটার্ন ছিল যা অভিজ্ঞরা বুঝতেন। এখন বর্তমান দলের খেলোয়াড়দেরই সেই দায়িত্ব নিতে হবে। বিশেষ করে ব্যাটারদের প্রতিটি পরিস্থিতি অনুযায়ী মানিয়ে নেওয়া শিখতে হবে।"
পাকিস্তান দলও এবার বাংলাদেশের মাটিতে এসেছে বড় পরিবর্তনের সঙ্গে। তাদের স্কোয়াডে ৬ জন নতুন খেলোয়াড় আছেন, যাদের মধ্যে অন্তত তিনজন আজ অভিষেক করতে পারেন। তবে তরুণ এই দলের মোকাবিলায় সতর্ক মিরাজ আশাবাদী, “কন্ডিশনের সুবিধা কাজে লাগিয়ে জয়ের ব্যাপারে আমরা আশাবাদী।”
পাক অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদি দলের সামর্থ্য নিয়ে আত্মবিশ্বাসী। তিনি বলেন, "বাংলাদেশ ঘরের মাঠে শক্তিশালী দল, বিশেষ করে সম্প্রতি তারা ভালো ফর্মে আছে। তবে দক্ষিণ আফ্রিকা ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আমরা যে ধারাবাহিকতা দেখিয়েছি, তা এখানেও বজায় রাখতে চাই।"
পরিসংখ্যানে পাকিস্তান অনেক এগিয়ে থাকলেও বাংলাদেশের কাছে আশার আলো ‘হোম কন্ডিশন’। বাংলাদেশের সঙ্গে পাকিস্তানের ৩৯টি ওয়ানডে ম্যাচের মধ্যে তারা জিতেছে ৩৪টি, বাংলাদেশ কেবল ৫টিতে জয়ী।
তবে আশার খবর হলো, এই ৫ জয়ের মধ্যে ৪টি এসেছে বাংলাদেশের ঘরের মাঠে। ২০১৫ সালে পাকিস্তানকে ঘরের মাঠে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করার সুখস্মৃতি এখনো স্মরণীয়।