শুক্রবার, 23 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতার বসাতে পশ্চিমবঙ্গকে হাইকোর্টের নির্দেশ

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের অরক্ষিত অংশে দ্রুত কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ শেষ করতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে কঠোর নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। সীমান্ত নিরাপত্তাকে জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে উল্লেখ করে আদালত আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে বিএসএফ-এর কাছে জমি হস্তান্তরের সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে।

বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতার বসাতে পশ্চিমবঙ্গকে হাইকোর্টের নির্দেশ
ছবি: সংগৃহীত

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের অরক্ষিত অংশে দ্রুত কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ শেষ করতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে কঠোর নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। সীমান্ত নিরাপত্তাকে জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে উল্লেখ করে আদালত আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে বিএসএফ-এর কাছে জমি হস্তান্তরের সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে।

আদালতের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যেসব জমি অধিগ্রহণের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার ইতোমধ্যে অর্থ প্রদান করেছে, সেগুলো দ্রুত বিএসএফ-এর কাছে বুঝিয়ে দিতে হবে।

দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের একটি বড় অংশ অরক্ষিত থাকায় বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের মধ্যে আইনি জটিলতা তৈরি হয়। কেন্দ্রীয় সরকারের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও পশ্চিমবঙ্গ সরকার জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায় দেরি করছে।

এই পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ এ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ আদেশ দেন।

শুনানিতে প্রধান বিচারপতি রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে জানতে চান, জাতীয় নিরাপত্তার মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে কেন দ্রুত জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন করা হচ্ছে না। আদালত পরিষ্কারভাবে বলেছেন, শুধু ‘সোশ্যাল ইম্প্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট’ বা সামাজিক প্রভাব মূল্যায়নের অজুহাত দেখিয়ে এই প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত করা গ্রহণযোগ্য নয়। আন্তর্জাতিক সীমান্তের সংবেদনশীলতা বিবেচনায় রাজ্য সরকারের এই গড়িমসিকে উদ্বেগজনক বলেও মন্তব্য করেন বিচারপতিরা।

আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে আসে, প্রায় ১৮০ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় জমি অধিগ্রহণের জন্য কেন্দ্র আগেই রাজ্যকে অর্থ দিয়েছে। পাশাপাশি যেসব এলাকায় এখনো মন্ত্রিসভার অনুমোদন মেলেনি, সেখানে জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে জরুরি ভিত্তিতে অধিগ্রহণ সম্ভব কি না—সে বিষয়ে কেন্দ্র ও রাজ্য উভয় পক্ষকে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ মামলার পরবর্তী শুনানি হবে আগামী ২ এপ্রিল।

সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ