বুধবার, 21 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

বাংলাদেশিদের জন্য সহজ চিকিৎসা ভিসা ও কম খরচে স্বাস্থ্যসেবার প্রতিশ্রুতি ভারতের

ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় কুমার ভার্মা জানিয়েছেন, বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য উন্নত ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে ভারত অত্যন্ত আন্তরিক।

বাংলাদেশিদের জন্য সহজ চিকিৎসা ভিসা ও কম খরচে স্বাস্থ্যসেবার প্রতিশ্রুতি ভারতের
ছবি : সংগৃহীত

ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় কুমার ভার্মা জানিয়েছেন, বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য উন্নত ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে ভারত অত্যন্ত আন্তরিক।

গত বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) রাজধানী ঢাকার একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই প্রতিশ্রুতি দেন। মূলত বাংলাদেশি রোগীদের জন্য ভারতের চিকিৎসা সেবা আরও সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী করার লক্ষ্যেই এই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।


অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের রিদম গ্রুপ এবং ভারতের বিখ্যাত মণিপাল হসপিটালের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এই দ্বিপাক্ষিক চুক্তির ফলে এখন থেকে বাংলাদেশি রোগীরা ভারতে গিয়ে চিকিৎসা গ্রহণের ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা পাবেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—ভিসা প্রাপ্তিতে দ্রুত সহযোগিতা, আবাসন সুবিধা, আধুনিক চিকিৎসা সেবা এবং বিমান ভাড়ার ওপর বিশেষ ছাড়। আয়োজকদের মতে, এর মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে মেডিকেল ট্যুরিজম বা চিকিৎসা পর্যটন খাতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।


ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক কেবল ব্যবসায়িক গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নয়, এটি মূলত মানুষের সাথে মানুষের গভীর সংযোগ। ভারতের বিশ্বমানের চিকিৎসা প্রযুক্তি এবং দক্ষতা বাংলাদেশের মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে দুই দেশের বেসরকারি খাতকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি। তিনি মনে করেন, এই উদ্যোগের ফলে উভয় দেশের চিকিৎসা কর্মকর্তাদের মধ্যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের পথ প্রশস্ত হবে।


কূটনৈতিক মহলের বরাতে জানা গেছে, সম্প্রতি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভারত সফরের সময় ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করও বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার আশ্বাস দিয়েছেন। বিশেষ করে চিকিৎসা ও ব্যবসায়িক ভিসা যাতে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে স্বাভাবিক এবং গতিশীল করা যায়, সে বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।


উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পরবর্তী পরিস্থিতিতে ভারত তার ভিসা কার্যক্রম কিছুটা সীমিত করেছিল। তবে বর্তমান আলোচনার প্রেক্ষাপটে ধারণা করা হচ্ছে, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে খুব দ্রুতই বাংলাদেশি রোগীদের জন্য চিকিৎসা ভিসা প্রদানের বিষয়টি পুরোপুরি স্বাভাবিক ও সহজতর হবে।