স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেলে বিয়ালা মাদ্রাসা সংলগ্ন ওই জঙ্গল থেকে হঠাৎ একটি শিশুর কান্নার আওয়াজ ভেসে আসে। শব্দ শুনে আশপাশের বাড়ির লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় নবজাতকটিকে পড়ে থাকতে দেখেন। তারা তাৎক্ষণিকভাবে শিশুটিকে উদ্ধার করে বাসাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে প্রাথমিক জরুরি সেবা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার সুবিধার্থে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।
উদ্ধারকারী স্থানীয় বাসিন্দা শারমিন বেগম জানান, পথ চলার সময় প্রথমে তিনিই ঝোপের মধ্য থেকে কান্নার শব্দ শুনতে পান। এরপর নিজের ভাগনেকে ডেকে এনে জঙ্গল থেকে নবজাতক শিশুটিকে কোলে তুলে নেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, উদ্ধারের সময় শিশুটির মাথায় আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে এবং পুরো শরীরে অসংখ্য পিঁপড়া কামড়াচ্ছিল।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী রফিকুল ইসলাম জানান, দুপুরের খাবার খেতে বসার মুহূর্তে তার খালার ডাক শুনে তিনি দ্রুত সড়কের পাশে ছুটে যান এবং জঙ্গলের ভেতর শিশুটিকে দেখতে পান। শিশুটির মাথায় জখম থাকায় কোনো রকম দেরি না করে তারা দ্রুত তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করেন।
এই বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন জানান, বিকেলের দিকে বিয়ালা মাদ্রাসার উত্তর পাশের জঙ্গল থেকে ওই নবজাতক কন্যাশিশুটিকে উদ্ধার করা হয়েছে। শিশুটি বর্তমানে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার নিবিড় তত্ত্বাবধানে রয়েছে। মাথায় আঘাতের দাগ থাকায় উন্নত ও সুচিকিৎসার জন্য তাকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নবজাতকটি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠার পর প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।