আজ বুধবার সকালে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা বাদী হয়ে আদমদীঘি থানায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেন।
থানার পরিদর্শক শহিদুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে জানান, গতকাল মঙ্গলবার বিকালের দিকে উত্তেজিত গ্রামবাসী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চড়াও হয়ে ওই শিক্ষককে উত্তম-মধ্যম দেয়। আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী তার ব্যবহৃত মুঠোফোনটি উদ্ধার করে হেফাজতে নিয়েছে এবং আজ দুপুরের দিকে বিচারিক আদালতের মাধ্যমে তাকে বগুড়া জেলা হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
পুলিশি নথিসূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম মাহমুদুল হাসান। তিনি আদমদীঘি উপজেলার কুন্দগ্রাম ইউনিয়নের কড়ই গ্রামের বাসিন্দা তরিকুল ইসলামের ছেলে এবং নশরতপুর ইউনিয়নের সাকুয়া এলাকার ঘোড়াদহ ছিদ্দিকিয়া দাখিল মাদ্রাসার সহকারী মৌলভী পদে কর্মরত। ভুক্তভোগী কিশোরী ওই মাদ্রাসারই নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। অভিযোগ রয়েছে, গত বেশ কিছু দিন ধরে ওই শিক্ষক ছাত্রীকে বিভিন্নভাবে হেনস্তা ও উত্যক্ত করে আসছিলেন। প্রায়শই তিনি মুঠোফোনে আপত্তিকর খুদেবার্তা পাঠিয়ে তাকে একান্তে দেখা করার জন্য চাপ সৃষ্টি করতেন। এতে অতিষ্ঠ হয়ে ওই ছাত্রী পুরো বিষয়টি তার অভিভাবককে জানালে ঘটনাটি স্থানীয় পর্যায়ে জানাজানি হয়ে যায়।
মঙ্গলবার সকালে ওই শিক্ষক মাদ্রাসায় উপস্থিত হলে ছাত্রীর স্বজন ও এলাকাবাসী বার্তা পাঠানোর বিষয়ে তার কাছে জবাবদিহি চান। এ সময় তিনি অভিযোগটি সম্পূর্ণ অস্বীকার করলে উপস্থিত সবার মাঝে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়। একপর্যায়ে বিকালের দিকে বিপুলসংখ্যক মানুষ মাদ্রাসায় জড়ো হয়ে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখে। খবর পেয়ে থানা-পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধারের চেষ্টা চালালে উত্তেজিত জনতা পুলিশের সামনেই তাকে গণপিটুনি দেয়। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে ওই শিক্ষককে থানা হেফাজতে নিয়ে যায়।
এই বিষয়ে মাদ্রাসার সুপার মাওলানা রহমতুল্লাহ জানান, প্রাতিষ্ঠানিক কোনো পদক্ষেপ গ্রহণের পূর্বেই এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে গেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পরবর্তীতে পরিচালনা পর্ষদের সাথে বৈঠক করে তার বিরুদ্ধে যথাযথ প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আদমদীঘি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামরুজ্জামান মিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বুধবার সকালে ছাত্রীর মায়ের দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে ওই শিক্ষককে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোনটি পরীক্ষা করে প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিলেছে।