বুধবার, 28 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

বিএনপি-জামায়াত সমর্থকদের তুমুল সংঘর্ষ, শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণ

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় রাজনৈতিক বিরোধের জেরে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর সমর্থকদের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

বিএনপি-জামায়াত সমর্থকদের তুমুল সংঘর্ষ, শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণ
ছবিঃ সংগৃহীত

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় রাজনৈতিক বিরোধের জেরে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর সমর্থকদের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

সোমবার (২৩ মার্চ) ভোরে উপজেলার রাজনগর ইউনিয়নের তালতলা গ্রামে এই সংঘাত চলাকালীন শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সংঘর্ষের একপর্যায়ে অন্তত ২০টি বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও ব্যাপক লুটপাটের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এখন পর্যন্ত ছয়জনকে আটক করা হয়েছে।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনগর জামেউল উলুম দাখিল মাদ্রাসা ভোটকেন্দ্রে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে আগে থেকেই বিরোধ চলে আসছিল। সেই রেশ ধরে গত রবিবার বিকেলে বিএনপির কর্মী হাফিজ ভূইয়ার ছেলে সাব্বিরকে মারধরের অভিযোগ ওঠে জামায়াত সমর্থক সোহেল কাজী ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোমবার ভোরে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ও ককটেল নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘাত চলাকালীন বেশ কিছু বাড়িতে ঢুকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুটে নেওয়ার অভিযোগ করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা।

ভুক্তভোগী সারিকা বেগম ও চন্দ্রবান বেগম জানান, নির্বাচনে বিএনপির পক্ষে কাজ করার কারণে পরিকল্পিতভাবে তাদের ঘরবাড়িতে হামলা ও লুটতরাজ চালানো হয়েছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সংরক্ষিত আসনের ইউপি সদস্য হাসিনা আক্তার এবং সোহেল কাজীর পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, প্রতিপক্ষই আগে হামলা চালিয়ে অরাজকতা সৃষ্টি করেছে এবং এখন উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা অভিযোগ দিচ্ছে। নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাহার মিয়া জানিয়েছেন, নির্বাচন-পরবর্তী শত্রুতার জেরে এই সহিংসতা ঘটেছে। বর্তমানে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।