বিএনপি নিজেদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশগুলোই বেছে নিয়ে আইন হিসেবে কার্যকর করেছে বলে অভিযোগ তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদ।
রোববার (৩ মে) সকালে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক জাতীয় কনভেনশনে বক্তব্য দিতে গিয়ে এ মন্তব্য করেন আব্দুল হান্নান মাসউদ। এনসিপির সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত এই কনভেনশনে জ্বালানি, অর্থনৈতিক সংস্কার এবং গণভোট নিয়ে আলোচনা হয়।
বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘যেসব অধ্যাদেশ বিএনপির কাছে মিষ্টি লেগেছে, মনে করেছে ক্ষমতায় থাকার পথ প্রশস্থ করবে, সেগুলোকে তারা আইনে রূপান্তর করেছে।’
জাতীয় সংসদের কার্যক্রম নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমার কাছে মনে হচ্ছে যে এটা প্রতারণা এবং প্রবঞ্চনার সংসদ। আমি অঙ্ক মিলাতে গিয়ে চিন্তা করি- আসলে কি পেলাম, কি চিন্তা করে এ সংসদে আসলাম? এই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরে, এত রক্তের বিনিময়ে, এরকম বড় বড় কথা বলে সংস্কারের বিভিন্ন দফা দেওয়া হলো- ৩১ দফা, তারপর এখন ৮৪ দফা- ২৩ এ ঐকমত্য পোষণ করার পরেও, এমন একটি গণভোটের পরেও, প্রথম সংসদ অধিবেশনে আমরা কি পেলাম?’
তিনি আরও অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে প্রণীত যেসব অধ্যাদেশ সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে পারত, সেগুলো বাতিল করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যে অধ্যাদেশগুলো অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে দেওয়া হয়েছে, যেগুলো সরকারকে জবাবদিহিতার আওতায় আনত, সেই অধ্যাদেশগুলো সরকার বাতিল করে দিয়েছে। যেমন, শেখ হাসিনার স্বজন হারানোর বেদনা ছিল- এই সরকারের অনেকের মধ্যেও সেই বেদনার কথা বলা হয়। অনেকে খুব আবেগী হয়ে ওঠেন, মনে হয় যেন উনারা গুমের শিকার হয়েছেন, তাই আমরা এখন গুম কমিশন নিয়ে কথা বলতে পারবো না- সব কথা উনারাই বলবেন। কারণ উনারা গুমের শিকার হয়েছেন, তাই উনারা যা বলবেন সেটাই ঠিক- এমন একটা অবস্থান তৈরি করা হচ্ছে।’
বিএনপির সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা তখন (নির্বাচন) বলতেন যে গণভোটের চারটা প্রশ্নের সাথে আমরা একমত না, এবং গণভোটে “হ্যাঁ” দিলেও আমরা এই প্রশ্নগুলোর বাস্তবায়ন করবো না- তাহলে দেখা যেত কত পারসেন্ট ভোট পেতেন। ২২০টা আসন কেন, ১০০টা আসন পেতেন কিনা- সেটা দেখা যেত। সেটা তো তখন বলেন নাই। রিকশায় উঠলেও রিকশাওয়ালা বলে- বিএনপি প্রতারণা করলো। সিএনজিওয়ালাও বলে- বিএনপি এটা করছে।’
এই কনভেনশনে দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সংস্কার প্রক্রিয়া নিয়েও বিস্তর আলোচনা হয়।