শুক্রবার, 6 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

বিশ্ববাজারে ফের বেড়েছে তেলের দাম

ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সংকট নিরসনে শান্তি আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। গত রোববার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩ দশমিক ১৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১০৪ দশমিক ৫০ ডলারে পৌঁছেছে।

বিশ্ববাজারে ফের বেড়েছে তেলের দাম
ছবি : সংগৃহীত

ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সংকট নিরসনে শান্তি আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।

গত রোববার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩ দশমিক ১৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১০৪ দশমিক ৫০ ডলারে পৌঁছেছে। পাশাপাশি মার্কিন অপরিশোধিত তেলের দামও ৩ দশমিক ২১ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৮ দশমিক ৪৮ ডলারে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে এই চিত্র উঠে এসেছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সমঝোতা প্রক্রিয়া ফের থমকে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম প্রধান রুট হরমুজ প্রণালি দিয়ে স্বাভাবিক যাতায়াত কবে শুরু হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছে না।

এ বিষয়ে জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ এক সাক্ষাৎকারে জানান, ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে দেওয়া সর্বশেষ প্রস্তাবে কিছু সুনির্দিষ্ট শর্ত বা 'রেড লাইন' নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছিল। ইরান সেই প্রস্তাবের যে জবাব দিয়েছে, তাকে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

কূটনৈতিক পর্যায়ে কোনো সমাধান না আসায় বিশ্বের মোট জ্বালানি পরিবহনের প্রায় ২০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণকারী হরমুজ প্রণালি পূর্ণাঙ্গভাবে খুলে দেওয়ার প্রক্রিয়াটি থমকে গেছে। অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, দেশটির একজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন—যেসব দেশ ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে, তাদের জাহাজগুলো হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার সময় প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখে পড়তে পারে।

বর্তমানে ইরানি বন্দর ও জাহাজগুলোর ওপর মার্কিন নৌ-অবরোধ কঠোরভাবে কার্যকর রয়েছে। এর মধ্যেই গত শুক্রবার অবরোধ ভেঙে যাওয়ার চেষ্টা করায় দুটি ইরানি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। জ্বালানি তেলের এই অস্থিরতার কারণে বর্তমানে তেলের দাম যুদ্ধপূর্ব পরিস্থিতির তুলনায় ব্যারেলপ্রতি ১০ থেকে ২০ ডলার বেশি। তেলের এই উচ্চমূল্যের সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ গ্রাহকদের ওপর, বিশেষ করে আমেরিকানদের দৈনন্দিন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে।