বাগেরহাটের মোংলায় সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের আন্ধারমানিক ইকোট্যুরিজম কেন্দ্রে অবস্থিত বন বিভাগের একটি কার্যালয়ের সামনে বাঘের দেখা মিলেছে।
শুক্রবার দুপুরে শ্যালা নদীর দক্ষিণ-পশ্চিম তীরে অবস্থিত এই কেন্দ্রের আশপাশে বাঘটিকে ঘুরে বেড়াতে দেখেন দায়িত্বরত বনকর্মীরা। এ সময় তারা নিজেদের মুঠোফোনের ক্যামেরায় প্রাণীটির বিচরণের দৃশ্য ধারণ করেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নদী পার হয়ে দক্ষিণ দিক থেকে এসে বাঘটি কিছু সময় কার্যালয়ের সামনে অবস্থান করে এবং চারপাশ পর্যবেক্ষণ শেষে উত্তর দিকের গহিন জঙ্গলে প্রবেশ করে।
বন কর্মকর্তাদের প্রাথমিক ধারণা, দৃশ্যমান বাঘটি একটি পূর্ণবয়স্ক বাঘিনি। উল্লেখ্য, চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি শরকির খাল এলাকা থেকে ফাঁদে আটকে আহত হওয়া একটি বাঘিনিকে উদ্ধার করা হয়েছিল। দীর্ঘ ছয় মাস চিকিৎসা শেষে গত ১৩ জুলাই সেটিকে আন্ধারমানিক বনাঞ্চলে অবমুক্ত করা হয়। তবে শুক্রবার দেখা পাওয়া বাঘিনিটি সেই অবমুক্ত করা প্রাণীটি কি না, তা নিয়ে প্রথমে নিশ্চিত হতে পারেনি বন বিভাগ।
পরবর্তীতে গায়ের ডোরার নকশা বিশ্লেষণ করে চাঁদপাই রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক দ্বীপন চন্দ্র দাস জানান, দেখা পাওয়া বাঘিনিটি বন বিভাগের অবমুক্ত করা প্রাণীটি নয়। এটি বনের অন্য একটি বন্য বাঘিনি হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। বর্তমানে অবমুক্ত বাঘিনির গতিবিধি পর্যবেক্ষণে সংলগ্ন আট কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ২০টি ট্র্যাপ ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এসব ক্যামেরার চিত্রে নতুন করে আরও তিনটি বাঘের উপস্থিতি ছাড়াও চিত্রা হরিণ, মায়া হরিণ, মেছো বাঘ, বন মোরগ ও বন্য শুকরসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর বিচরণের তথ্য উঠে এসেছে।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, সাম্প্রতিক সময়ে বনাঞ্চলে বাঘের বিচরণ আগের চেয়ে দৃশ্যমানভাবে বেড়েছে। এর পাশাপাশি হরিণের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার তথ্যও পাওয়া গেছে। নিয়মিত টহল দেওয়ার সময় বনকর্মীরা আগের তুলনায় অনেক বেশি বাঘের পদচিহ্ন দেখতে পাচ্ছেন, যা বনের বাস্তুসংস্থানের জন্য ইতিবাচক ইঙ্গিত।