বুধবার, 21 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

বন্ধ কারখানা চালুতে বিনিয়োগকারীদের সহায়তার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

রাষ্ট্রায়ত্ত যেসব কলকারখানা বর্তমানে বন্ধ বা লোকসানের মুখে রয়েছে, সেগুলো পুনরায় সচল করতে আগ্রহী দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সম্ভাব্য সব ধরনের নীতিগত ও অন্যান্য সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বন্ধ কারখানা চালুতে বিনিয়োগকারীদের সহায়তার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর
ছবি : সংগৃহীত

রাষ্ট্রায়ত্ত যেসব কলকারখানা বর্তমানে বন্ধ বা লোকসানের মুখে রয়েছে, সেগুলো পুনরায় সচল করতে আগ্রহী দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সম্ভাব্য সব ধরনের নীতিগত ও অন্যান্য সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

ব্যবসায়ী নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দেশের শিল্প খাতের বিকাশ ও সমৃদ্ধির যাত্রায় সরকার আপনাদের পাশে থাকবে এবং পথ সুগম করতে প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা জোগাবে।

শনিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক বিশেষ রোড-শোতে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে সরকারপ্রধান এই প্রতিশ্রুতি দেন। শিল্প মন্ত্রণালয়, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) যৌথভাবে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের নিয়ে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। মূলত অকার্যকর ও বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানাগুলোতে নতুন করে বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি করাই ছিল এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, একটি গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক সরকারের প্রধান কাজ হলো শিল্পায়নের পথে থাকা সব ধরনের প্রশাসনিক ও অন্যান্য বাধা দূর করা এবং চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করা। তবে এই বিশাল কাজ শুধু সরকারের একার পক্ষে সম্পন্ন করা কঠিন মন্তব্য করে তিনি বলেন, সব সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান হয়তো সম্ভব নয়, তবে সুপরিকল্পিত উপায়ে ধাপে ধাপে এসব সংকটের উত্তরণ ঘটানো সম্ভব।

দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই সেমিনারের উন্মুক্ত আলোচনা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ব্যবসায়ী ও অংশীজনদের একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিদ্যমান সমস্যা ও চ্যালেঞ্জগুলোকে সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে মোকাবিলা করে দেশের শিল্প খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।

দিনব্যাপী এই আয়োজনে বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে দেশের ৪৪টি বন্ধ ও লোকসানি কারখানার বর্তমান অবস্থা এবং এর উপযোগিতা বিশদভাবে উপস্থাপন করা হয়। এই উপস্থাপনায় কারখানাগুলোর ভৌগোলিক অবস্থান, অবকাঠামোগত সুবিধা, যাতায়াত ব্যবস্থা, উৎপাদন বৃদ্ধির সম্ভাবনা এবং বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সরকারের দেওয়া বিভিন্ন প্রণোদনার বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়। পরবর্তীতে উপস্থিত ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা উন্মুক্ত আলোচনা সেশনে অংশ নিয়ে বিভিন্ন বিষয়ে নিজেদের মতামত ব্যক্ত করেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাদের নানা জিজ্ঞাসার জবাব দেন।

উচ্চপর্যায়ের এই অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির এবং প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। এছাড়াও ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তারসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এতে অংশ নেন।

দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠীগুলোর মধ্যে প্রাণ-আরএফএল, এসিআই, ওয়ালটন, মেঘনা গ্রুপ, রানার, টি কে গ্রুপ, ব্র্যাক, নাবিল গ্রুপ, স্কয়ার, ট্রান্সকম, আকিজ এবং লাল তীরের প্রতিনিধিরা এই রোড-শোতে যোগ দেন। দেশীয় উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি জাপানের শীর্ষস্থানীয় বিভিন্ন কর্পোরেশন ও সংস্থার প্রতিনিধিরাও এতে অংশ নেন, যার মধ্যে মারুবেনি, টয়োটা সুশো, সুমিতোমো, এমইউএফজি ব্যাংক, মিতসুই অ্যান্ড কোং, সোজিৎস এশিয়া, জেট্রো বাংলাদেশ কার্যালয় এবং ঢাকাস্থ জাপানি দূতাবাসের কর্মকর্তারা উল্লেখযোগ্য।