শনিবার, 7 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

বরগুনায় জেলা পরিষদ ডাকবাংলো থেকে মা ও দুই মেয়ের মরদেহ উদ্ধার

বরগুনা জেলা পরিষদ ডাকবাংলোর তৃতীয় তলার দুটি ভিন্ন কক্ষ থেকে এক নারী ও তাঁর দুই কন্যাসন্তানের মরদেহ উদ্ধার করেছে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন। বুধবার বিকালের দিকে ভবনটি থেকে লাশগুলো উদ্ধার করা হয়।

বরগুনায় জেলা পরিষদ ডাকবাংলো থেকে মা ও দুই মেয়ের মরদেহ উদ্ধার
ছবি : সংগৃহীত

বরগুনা জেলা পরিষদ ডাকবাংলোর তৃতীয় তলার দুটি ভিন্ন কক্ষ থেকে এক নারী ও তাঁর দুই কন্যাসন্তানের মরদেহ উদ্ধার করেছে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন। বুধবার বিকালের দিকে ভবনটি থেকে লাশগুলো উদ্ধার করা হয়।

নিহতরা হলেন বরগুনা পৌর এলাকার কালিবাদী অঞ্চলের বাসিন্দা দুলাল চন্দ্র বিশ্বাসের সহধর্মিণী ইতি রাণী এবং তাঁদের দুই সন্তান আরাধা বিশ্বাস ও অনুরাধা বিশ্বাস। মারা যাওয়া ইতি রাণী ওই ডাকবাংলোর পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, আনুমানিক দুই মাস পূর্বে ইতি রাণী এই ডাকবাংলোয় পরিচ্ছন্নতার কাজে যোগ দেন। সচরাচর সকালের দিকে কর্মস্থলে পৌঁছালেও বুধবার তিনি বেলা এগারোটার দিকে দুই মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে আসেন। পরবর্তীতে তিন তলার একটি কক্ষ ভেতর থেকে অবরুদ্ধ দেখে ভবনে থাকা অন্যান্য কর্মচারীরা বিষয়টি আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে অবহিত করেন। খবর পেয়ে পুলিশ এসে একটি কক্ষ থেকে বড় মেয়ের এবং পাশের আরেকটি কক্ষ থেকে মা ও ছোট মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করে।

মৃত নারীর স্বামী দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস জানান, সকালে কর্মস্থলে যাওয়ার পূর্বে পারিবারিক রান্নাবান্নার বিষয়ে স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর কথা হয়। সেই মোতাবেক বাজারসদাই গুছিয়ে দিয়ে তিনি বাড়ি থেকে বের হন। দুপুরে ঘরে ফিরে তালাবদ্ধ দেখে তিনি ভাবেন স্ত্রী হয়তো পাশের বাড়িতে তাঁর বোনের কাছে গেছেন। তবে কী কারণে ইতি রাণী দুই সন্তানকে নিয়ে ডাকবাংলোয় এসেছিলেন, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানাতে পারেননি।

জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম মোল্লা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ইতি রাণী প্রতিদিনের চেয়ে কিছুটা দেরিতে দুই সন্তানসহ ডাকবাংলোয় এসেছিলেন। পুরো ভবনটি সিসিটিভি ক্যামেরার নজরদারিতে রয়েছে এবং ইতিমধ্যে সেই ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি দেখে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সন্তানদের বিষাদময় পরিণতির দিকে ঠেলে দিয়ে মা নিজে আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে বরগুনার পুলিশ সুপার মো. কুদরত-ই-খুদা গণমাধ্যমকে জানান, একটি কক্ষের দরজা উন্মুক্ত থাকলেও অন্য কক্ষটি ভেতর থেকে আটকানো ছিল। বড় মেয়ের লাশের পাশে কয়েকটি ঘুমের ওষুধ ও পানির পাত্র পাওয়া গেছে। আলামত দেখে মনে হচ্ছে এটি একটি সুপরিকল্পিত ঘটনা। তবে এর নেপথ্যে অন্য কোনো রহস্য বা পারিবারিক কারণ লুকিয়ে আছে কি না, তা উদঘাটনে গভীর তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।